সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

  ১৭ আগস্ট, ২০২২

এক মাসের ছুটি নিয়ে বছর ধরে আমেরিকায় শিক্ষিকা

ছবি : সংগৃহীত

এক মাসের ছুটি নিয়ে আমেরিকায় গিয়ে বছর ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকা। দীর্ঘদিন যাবত প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ অন্যান্য সহকর্মী ও শিক্ষা অফিসারসহ কারও সঙ্গেই যোগাযোগ নেই তার। ফলে তিনি জীবিত না মৃত অথবা কোথায় আছেন, কি করছেন বা কর্মস্থলে কেন অনুপস্থিত এই বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রহমাতুল্লাহ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা মোছা. আশরাফী পুরাতন বাবুপাড়া দারুল উলুম মাদরাসা মোড় এলাকার মাহমুদ আলমের স্ত্রী। তিনি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে স্বপরিবারে এক প্রকার লাপাত্তা।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন বলেন, ‘আমেরিকায় অবস্থানকারী অসুস্থ শাশুড়িকে দেখার জন্য গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির আবেদন করেন আশরাফী। তাতে আমি নিজে সুপারিশ করে শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে শিক্ষা অধিদফতরে প্রেরণ করা হয়।’

পরে তিনি ডিজির অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশে চলে যান। তবে যাওয়ার সময় ছুটি মঞ্জুরির কোনো প্রকার কাগজ বা প্রমাণপত্র বিদ্যালয়ে বা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেননি। গৃহিত একমাসের ছুটি শেষ হলেও তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করলে টিও সারের নির্দেশে ১২ অক্টোবর ২০২১-এর পর থেকে হাজিরা খাতায় তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে আসছি।

প্রধান শিক্ষিকা আরও বলেন, ‘তার সঙ্গে আশরাফীর কোনো প্রকার যোগাযোগ নেই। কেন তিনি এতদিন ধরে আমেরিকায় তা জানি না। আপনার অধীনস্ত একজন ছুটি ছাড়া কীভাবে এতদিন বিদেশে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির বিধিমতে পাঁচ বছর পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা যায়। হয়তো সেভাবেই আশরাফী ছুটি নিয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে পারেনি প্রধান শিক্ষিকা।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান আলী মন্ডল একইভাবে কোনোরকম কাগজপত্র বা আপডেট তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন। আমাদের আর কিছুই করার নাই।’

আপনার লিখিত ফরওয়ার্ডিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা অধিদফতর বা মন্ত্রণালয় কি ফিডব্যাক দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আর কোনো যোগাযোগ করিনি। সর্বশেষ কি অবস্থা সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আশরাফীর পরিবারের কাছ থেকেও কোনো তথ্য জানার চেষ্টা করেননি এই কর্মকর্তা।

এদিকে ওই শিক্ষিকা না থাকায় তার ক্লাসগুলো দীর্ঘ একবছর ধরে অন্য শিক্ষিকারা সমন্বয় করে নিচ্ছেন। এতে তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। শিক্ষিকারা আরও বলেন, আশরাফী কারও সঙ্গেই যোগাযোগ রাখেনি। এমনকি ফেসবুক একাউন্টটাও লক করে রেখেছে।

একটি সূত্রমতে, শিক্ষিকা আশরাফী মূলত শাশুরির অসুস্থতার অজুহাতে আমেরিকায় গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত। পাশাপাশি চাকরিও করছেন। এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষিকাসহ উপজেলা শিক্ষা অফিসার অবগত এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও তারাই ম্যানেজ করে রেখেছেন। আর আমাদেরকে অতিরিক্ত খাটাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে আশরাফীর ভাই কামাল ইকবাল ফারুকীর সঙ্গে কথা বললে তিনি কোনো তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সেইসঙ্গে বোনের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়েও কোনোরকম মন্তব্য করতে চাননি। শুধু জানান, তার সঙ্গে পরিবারের কারও সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমেরিকা,শিক্ষিকা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close