সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ (গুরুদাসপুর) নাটোর

  ১৫ আগস্ট, ২০২২

শিক্ষিকা খাইরুনের স্বামী মামুন জেলে

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নাটোরের গুরুদাসপুরের এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খাইরুন নাহারের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আটক স্বামী কলেজ ছাত্র মামুন হোসেনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা। সোমবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে তাকে আদালতে নেয়া হয়।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় মামুনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় তাকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসিম আহম্মেদ বলেন, ‘মামুন হোসেনকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. মোসলেম উদ্দীনের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নাটোর মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক (আরএমও) শামিউল ইসলাম শান্ত জানিয়েছিলেন, খায়রুন নাহারের মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শ্বাসরোধ হওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এরপরও ভিসেরা রিপোর্ট পেলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

নাটোর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক পরিতোষ কুমার জানান, আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা শামিউল ইসলাম শান্তকে প্রধান করে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার পর খাইরুন নাহারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

রবিবার ভোরে খাইরুন নাহারের মরদেহ তার বাসভবনের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহনন করেছেন।

খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার চাচাতো ভাই সাবের উদ্দিন রবিবার রাতে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত ৮টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার স্থানীয় আবু বকর সিদ্দিকী কওমী মাদ্রাসা মাঠে জানাযা শেষে খামার নাচকৈড় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

উল্লেখ্য, দুই সন্তানের জননী খায়রুন নাহার আগের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মামুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের ৬ মাস পর গত জুলাই মাসে বেশকিছু সংবাদ মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ পেলে আলোচিত-সমালোচিত হন তিনি। রবিবার সকাল ৭টার দিকে শহরের বলারিপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে কলেজশিক্ষিকা খাইরুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরপরই তার স্বামী মামুন হোসেনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

খায়রুন নাহার গুরুদাসপুর পৌরসদরের খামারনাচকৈড় মহল্লার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে। বর্তমান স্বামী মামুন হোসেন উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও নাটোর এন এস সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

৪২ বছর বয়সী খাইরুন নাহার গুরুদাসপুরের খুবজিপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক। ২২ বছরের মামুনের বাড়ি উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামে। তিনি নাটোর এন এস সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে নিজ বাড়িতেই থাকতেন খায়রুন। ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ২০২১ সালের ২৪ জুন মামুনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরিচয়ের ছয় মাস পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন তারা।

বিয়ের ছয় মাস পর জুলাইয়ে ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাদের বিয়ের খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়; স¤প্রচার করা হয় ভিডিও সাক্ষাৎকারও। এতে ‘টক অফ দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয় বিষয়টি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
শিক্ষিকা,খাইরুন,স্বামী মামুন,জেলে
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close