খুলনা ব্যুরো

  ০৫ আগস্ট, ২০২২

লোডশেডিংয়ে ক্ষতির মুখে খুলনার পাট শিল্প 

ছবি : সংগৃহীত।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে খুলনায় পাট শিল্প চরমভাবে আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন এই শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্তরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার পাট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে উৎপাদন হয় বিভিন্ন প্রকার পাটজাত উপকরণ। এছাড়া উৎপাদিত মূল্যবান ব্লেজারের সুতা প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে এ জনপদের মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরম ও মশার উপদ্রবে মানুষের কাটছে নিদ্রাহীন রজনী। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। হাট-বাজারে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে, সরকারি দপ্তরগুলোর দৈনন্দিন কর্মকান্ড, চিকিৎসাসহ সকল কাজে গতিরোধ হচ্ছে। অনেক এলাকায় ৩-৪ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে। রাতেও বাদ যায় না। খুলনা মহানগরী এলাকায় অনাবৃষ্টির তাপদাহ, প্রচণ্ড মশার উপদ্রব ও লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষ ঘর থেকে বাড়ির আঙ্গিনায়, প্রধান ফটকের সামনে ও রাতে নিদ্রাহীন রজনী কাটাচ্ছেন।

দিঘলিয়ার ফরমাইশখানা গ্রামের কার্পেটিং মিল ব্যবসায়ী মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে এ খাত অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খুচরা পাট ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের অজুহাতে এ সকল পাট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকছে। ফলে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ।

দেয়াড়া জুট টেক্সটাইল মিলের কর্মকর্তা (এ্যাডমিন) মো. শহিদুল আলম এ প্রতিবেদককে জানান, দিন-রাতে বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। একবার বিদ্যুৎ গেলে অনেক সময় পরে আসে। প্রতিদিন ৪ ঘন্টা করে লোডশেডিং চলছে। লোডশেডিংয়ের কারণে মিলের উৎপাদন চালিয়ে রাখার জন্য জ্বালানি ডিজেল ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। যা উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে ঘাটতি হবে, এতে পরোক্ষভাবে দেশের উপর প্রভাব ফেলবে।

তিনি বলেন, যেভাবে বিদ্যুৎ যাচ্ছে তাতে কোনো ভাবেই ক্রেতাদের ঠিকমতো মাল দেওয়া যাবে না। আগামীতেও পাটজাতদ্রব্য চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। তবে এটা রাষ্ট্রীয় সমস্যা আমাদের মেনে নিয়েই চলতে হবে।

পাট শিল্প প্রতিষ্ঠান সাগর জুট স্পিনিং মিলের ম্যানেজার এ্যাডমিন মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ঘন ঘন লোড শেডিং ও প্রতিদিন ৪ ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক উৎপাদন মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা বর্তমান ও আগামী দিনে পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ঘাটতি দেখা দিবে।

দিঘলিয়া জামান জুট করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিপন মোল্লা এ প্রতিবেদককে বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে দেশে কাঁচাপাট মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মিলগুলো চালিয়ে রাখতে কাঁচাপাট ও জনবল সংকট দেখা দিতে পারে। স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আগামীতে রপ্তানি ঘাটতি হবে। যা দেশের উপর অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
লোডশেডিং,ক্ষতির মুখে,পাট শিল্প
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close