বেনাপোল প্রতিনিধি

  ০৭ জুলাই, ২০২২

দুই প্রতারকের ফাঁদে নিঃস্ব ১৪ পরিবার

প্রতীকী ছবি

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ার বেলতলা বাজারে মিলন মেডিকেল হল এর মালিক দুই প্রতারক মিলন ও তুহিন বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ও ফাঁদে ফেলে এলাকার সহজ-সরল ১৪টি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ওষুধ ফার্মেসির ব্যবসা, ফ্লেক্সিলোড, বিকাশ ও হুন্ডির ব্যবসার কথা বলে এসব পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকায় বছরে ১২ হাজার টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে সুকৌশলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দুই প্রতারক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগুড়ী গ্রামের ওহিদুলের কাছ থেকে ৬৫ হাজার, আনিছুর রহমান মন্টুর কাছ থেকে এক লাখ, সাইদুল ইসলাম (প্রবাসীর) কাছ থেকে ৪ লাখ, তার মা মোরফুল খাতুনের কাছ থেকে এক লাখ ২৫ হাজার, জালাল মিস্ত্রির স্ত্রী খাদিজার কাছ থেকে ৫০ হাজার, আব্দুল গফ্ফারের স্ত্রী নাছিমার কাছ থেকে এক লাখ, আব্দুল আজিজ (বাচার) স্ত্রী আছিয়ার কাছ থেকে এক লাখ, শামছুর রহমানের মেয়ে মঞ্জুয়ারার কাছ থেকে এক লাখ, আব্দুর সাত্তারের স্ত্রী নাছিমার কাছ থেকে ৬০ হাজার, মৃত শফিয়ার সরদার ও তার ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এছাড়াও পার্শ্ববর্তী কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর কাছ থেকে ৩ লাখ, আনার আলীর কাছ থেকে এক লাখ, নুর ইসলামের স্ত্রী ফরিদার কাছ থেকে ৩০ হাজার, আব্দুল গনির স্ত্রী স্বপ্নার কাছ থেকে ৫০ হাজার ও শেখ পাড়া আশিকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকাসহ মোট ১৭ লাখ ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের জানায়, দীর্ঘ ছয় সাত বছর আগে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, কিন্তু আজ অবধি কারো টাকা পরিশোধ করছে না। তারা আরও বলেন, টাকা চাইতে দোকানে গেলে আমাদের তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ মারধর করেন, আবার বলেন ‘টাকা দিয়েছিস তার কোনো ডকুমেন্টস আছে, পারলে টাকা আদায় করে নিস’। এমনকি মাস্তান ভাড়া করে এনে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।

এ বিষয়ে মিলন মেডিকেল হলের মালিক মিলনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি কারো কাছ থেকে কোনো ধররেনর টাকা ধার নেইনি। আমি এক লাখ টাকায় বছরে বিশ (২০) হাজার টাকা লাভ হিসেবে নিয়েছি। যদি দুয়েকজন টাকা পাওনাদার থাকেন তাহলে তা পরে দিয়ে দেবো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ মুজিবর রহমান মজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তাদের দুই ভাইয়ের কাছে এলাকার অনেক মানুষ টাকা পায়, কিন্তু তারা কারো টাকা পরিশোধ করে না।

তিনি আরো বলেন, বিগত দিনে জামাত-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে আওয়ামীলীগের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় দাপট দেখিয়ে চলে এবং ব্যাগের ভেতরে সব সময় একটি হাতুড়ি রাখে বলে এলাকায় সে একজন হাতুড়ি ডাক্তার হিসেবে পরিচিত।

এ বিষয়ে বেলতলা বাজার কমিটির সভাপতি ও কায়বা ইউপি চেয়ারম্যান আলতাব হোসেন বলেন, আমি কোনো অন্যায় কাজে সমর্থন করি না। ভুক্তভোগীরা আমার আমার ইউনিয়নের নাগরিক। সেক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদে তারা লিখিত অভিযোগ দিলে আমি তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
যশোর,শার্শা,বাগআঁচড়া,মিলন মেডিকেল হল
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close