তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

  ০২ জুলাই, ২০২২

তিতাসে ৩০ গ্রামের মানুষের পারাপার নৌকায়

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

কুমিল্লার তিতাসের গোমতী- কাঁঠালিয়া নদীর সংযোগ মাইটা নদীতে পারাপারের সেতু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে ৩০ গ্রামবাসী। পার হওয়ার জন্য ৩০ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা।

জানা যায়,৩০ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা হলো নৌকা। এই নদীতে সেতু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে চলাচল করছে ৩০ গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রয়োজন বলে দাবি জানান এই অঞ্চলের মানুষেরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,গোমতী- কাঁঠালিয়া নদীর সংযোগ মাটিয়া নদীটি তিতাস ও দাউদকান্দি উপজেলার শেষ সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় দুই উপজেলার প্রায় ৩০ গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা হলো নৌকা। এই নদীর পূর্ব পাশে তিতাস উপজেলার বালুয়াকান্দি, কাকিয়াখালি, শাহবৃদ্ধি, মজিদপুর, আলীর গাঁও, কড়িকান্দি, কলাকান্দি, একলারামপুর, শাহপুর, শোলাকান্দি, লালপুর, ভাটিপাড়া, দুধঘাটা, দড়িগাঁও, মোহনপুর, ৫ আটি আর দাউদকান্দি অংশে বারজা, বাহেরচর, হাসনাবাদ, চাউরারচর, নন্দিরচর, গংগারদ, বালুরচরসহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দাদের ছোট মাটিয়া (মাইট্টা) নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা নৌকা।

বালুয়াকান্দি গ্রামের মুদিদোকানি হক মিয়া জানান, এই নদীর ওপর দিয়ে হাজার হাজার মানুষ আসা যাওয়া করে। এর মধ্যে ৪০-৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীও নৌকায় চলাচল করে। তবে শুকনো মৌসুমে বাঁশেরসাঁকোর ওপর দিয়ে আসা যাওয়া করতে পরালেও বর্ষ মৌসুমে এই নদীর ওপর দিয়ে মানুষের চলাচলে বিরাট অসুবিধা হয়। তিতাস উপজেলার মধ্যে একমাত্র এই নদীর ওপরই কোন ব্রিজ নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুকনো মৌসুমে মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে এই নদীর ওপর একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করি। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এই নদীতে পানি বেড়ে যায়, যার জন্য এই নদীতে একটা নৌকা রাখি, আর সেই নৌকা দিয়ে ২০ টাকা করে মানুষ আসা যাওয়া করে। একটা ব্রিজের অভাবে মানুষ ১০ বছর যাবৎ অনেক কষ্ট করে এই নদীর ওপর দিয়ে আসা যাওয়া করছে।

স্থানীয় সমাজ সেবক সুমন মিয়া বলেন, গোমতী-কাঁঠালিয়া নদীর সংযোগ মাটিয়া নদীতে একটা সেতু জরুরি দরকার, একটা সেতুর অভাবের মানুষ অনেক কষ্ট করছে।

বালুয়াকান্দি গ্রামের মো.হানিফ মিয়া জানান,আমরা এই নদী নিয়ে অনেক সংকটে আছি অনেক বছর ধইরা। আজ থেকে ৪০-৫০ বছর ধইরা গুদারা দিয়া এই গ্রামের লোক এপার-ওপার আসা যাওয়া করে। তখন থেইকা গুদারা রেট দিন দিন বাইড়া যাইতো গা, আবার রোদও মাঝি পার করতে গিয়া বিরক্ত হইয়া চইলা যাইতো। আজ থেকে ৮ বছর আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেই একটি বাঁশেরসাঁকো দেয়ার জন্য এবং মানুষের কাছ থেকে টাকা-পয়সা তুইলা এই নদীতে একটা বাঁশের সাঁকো দেই।

তিনি বলেন, এই দুর্ভোগের হাত থেকে আমরা রেহাই চাই এবং এই নদী ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।

উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মোজাম্মেল হক বলেন, আমি তো সরজমিন গিয়েছিলাম, এই মূহুর্তে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা নেই। সামনে সুযোগ পেলে এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করে দিবো।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
তিতাস,নৌকা
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close