গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ২৯ জুন, ২০২২

লোহার টুং টাং শব্দে মুখর কামারপাড়া

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে টুং টাং শব্দে মুখরিত হয় ওঠেছে সিরাজগঞ্জের কামারপাড়া। এ উপলক্ষে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের। সারাদিন তপ্ত ইস্পাত গলিয়ে চলছে, দা, বটি, ছুরি তৈরির কাজ। দম ফেলারও সময় নেই তাদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ অবিরাম করছেন তারা। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। কেউ ভারী হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন আগুনরঙা লোহার দণ্ড। কেউ পোড়া দা ও ছুরিতে দিচ্ছেন শান। কেউবা হাঁপর টেনে বাতাস দিচ্ছেন।

জেলার বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা যায়, দা, ছুরি, চাকু ও বটির বেচাকেনা বেড়েছে। তবে কারিগররা অভিযাগ করেন, তাদের পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি অনেক কম।

জানা গেছে, এবছর প্রতি পিছ চাকু ১০০-১৫০ টাকা, দা ৩০০-৬০০ টাকা, ৬০০ টাকা কেজি দরে চাপাতি, জবাই ছুরি ৮০০-১২০০ টাকা বিক্রি করছেন কারিগররা। এছাড়াও পুরনোসব যন্ত্রপাতি শান দিতে গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। সারা বছর তেমন কাজ না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে পৈতৃক এই পেশা পরিবর্তন করছে বলে জানা গেছে।

তবে কিছু ব্যতিক্রম জেলার কামারখন্দ, বেলকুচি, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায়। ওই এলাকায় কামাররা বলেন, সারা বছরই আমাদের মোটামুটি বিক্রি হয়। তবে কোরবানি ঈদে বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি। এই সময় ভালোই আয় হয়।

কামারখন্দ উপজলার জামতৈল গ্রামের রনজিৎ কামার, বদন কামার ও প্রভাত কামার জানান, কোরবানি ঈদে তারা প্রতিবছর দা, ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করেন। বর্তমানে লোহা ও কয়লার দাম অনেক বেড়েছে। সে তুলনায় কামার শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। তাদের আশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া হাটে কিনতে আসা আব্দুল মান্নান, ওহাব, রইজ উদ্দিনসহ কয়েকজন ক্রেতা জানান, কোরবানি ঈদের কিছুদিন বাকি। তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছি। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, বটির দাম একটু বেশি বলে জানান তারা।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সিরাজগঞ্জ,কামার,লোহার টুং টাং শব্দ,হাঁপর,দা,ছুরি,বটি,শান
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close