মো.রবিউল ইসলাম, টঙ্গী (গাজীপুর)

  ২৯ জুন, ২০২২

আহসান উল্লাহ মাস্টার হাসপাতাল

অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অভিযোগেও মেলে না প্রতিকার

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

জীবনের সংকটময় মুহূর্তে হাসপাতালে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন মানুষ। অধিকাংশ সময় মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াতে তাদের স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেন। সেসব রোগীদের জিম্মি করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক সিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এটাই প্রথম নয়; এর আগেও বহুবার তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং সেগুলোর প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যম ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলো। কিন্তু প্রতিবারই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়সারা সতর্কতা ও তদন্ত কমিটি গঠন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ফলে সে হয়ে উঠেছে আরো বেপরোয়া।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক সিরাজ বাড়তি ভাড়া আদায়ের কৌশল হিসেবে কখনো হাসপাতালের পেছনে অ্যাম্বুলেন্স রেখে অ্যাম্বুলেন্স নেই বলে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন, কখনো আবার দরকষাকষির মাধ্যমে নিজেই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার খাতায় তিনি ঠিকই সরকারি তালিকা অনুযায়ী ভাড়া লিখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ড্রাইভার সিরাজের বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠলে প্রতিবারই আমাকে রেখে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ক্ষমা চেয়ে শুধরে যাওয়ার অঙ্গিকার করে পুনরায় এ কাজে লিপ্ত হন।

কেন তাকে বার বার ক্ষমা করা হচ্ছে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল চিকিৎসক (আরএমও) ডা. পারভেজ ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম তাকে ক্ষমা করে কাজে বহাল রাখার নির্দেশ দিলে আমরা তা পালন করতে বাধ্য হই।

এই বিষয় জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক ডা.জাহাঙ্গীর আলম প্রশ্নটিকে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি এখন জরুরি মিটিং এ আছি তাই কোনো মন্তব্য করতে পারব না। আপনি আরএমও সাহেব এর সঙ্গে কথা বলেন এসব কিছু আরএমও সাহেব দেখা শোনা করেন।

তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী রোগীদের নিয়ে আসুন। তারা লিখিত অভিযোগ দিক আর আপনারাও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ দিন, তাহলে আমরা তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।

সোমবার (২৭ জুন) দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতলে ঘুরে দেখা যায়, টঙ্গী শহীদ আহসান মাস্টার জেনারলে হাসপাতাল থেকে গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি গুরুতর রোগী সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়ার দরকষাকষি করছেন ড্রাইভার সিরাজ। সরকারি দর অনুযায়ী ৫১০ টাকা নির্ধারিত ভাড়া হলেও তাদের কাছ থেকে তিনি ১ হাজার টাকা নেন।

এভাবে প্রতিদিন তিনি রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে হয়রানি করছেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা হতাশা প্রকাশ করলেও তার ‍বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাম্বুলেন্স চালক সিরাজ বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে সরকারি নিয়মেই ভাড়া নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স গোপন রেখে ভাড়া নৈরাজ্য শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই সময় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গঠিত তদন্ত কমিটির কাছ থেকে সাধারণ ক্ষমা পেয়ে পুনরায় বাড়তি ভাড়া আদায় লক্ষ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অ্যাম্বুলেন্স চালক সিরাজ।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
টঙ্গী,আহসান উল্লাহ মাস্টার,হাসপাতাল,অ্যাম্বুলেন্স,বাড়তি ভাড়া
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close