কে এইচ এম নূরুল আলম কামাল, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

  ২৩ জুন, ২০২২

আমরার দুঃখ দেহার কেউ নাই, ৮০ বছরের কাচুমার আহাজারি

পানিবন্দি ৮০ বছরের বৃদ্ধা কাচুমার আহাজারি। ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

‘আমার বয়স হইছে। কোন সময় জানি মরণ অয়। অহন মরলে মাটি দেওয়ার জায়গা অইবনা। আট দিন অয় বানের হানি (পানি) আইছে, খাইয়া না খাইয়া হানির মধ্যে আটকে আছি। কেউ আইয়া ছুহি দিয়া দেখলো না। হুনছি সরকার মাইনষেরে খাওন দিতাছে। কিন্তু আমরার কহালে (কপালে) জুটল না। আমার ছেরা একটা। ছেরা কাম করলে খাইতাম হারি। বন্যার হানির লাগে কামও করতা হারেনা। সরকার থাইককে যা আইয়ে সব চেয়ারম্যান মেম্বরের আত্মীয়-স্বজন ও ধনী মাইনষেরে দিয়াই হারে না।’ এসব কথা বলে আহাজারি করে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছিলেন নেত্রকোনার মদন উপজেলা গোবিন্দশ্রী বাড্ডা শান্তিপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা কাচুমা (৮০)। তিনি গোবিন্দশ্রী বড্ডা গ্রামের মৃত নিন্দর আলী স্ত্রী।

শুধু কাচুমা একা নয় গোবিন্দশ্রী শান্তিপাড়া গ্রামের বন্যায় পানিবন্দি এমন শতাধিক নিন্ম আয়ের পরিবার রয়েছে। যারা সরকারি-বেসরকারি কোন ত্রাণসামগ্রী পায়নি। এছাড়াও গোবিন্দশ্রী বড্ডা একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে যা মোহাম্মাদ আলী নামে একজন দখল করে আছে। এই আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যায় গৃহহীন কোন পরিবারের আশ্রয় হয়নি।

কাচুমার একমাত্র ছেলে

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, গত শুক্রবার বিকেল থেকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার ৭০ থেকে ৮০ ভাগ স্থানে পানি প্রবেশ করে। বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ায় প্রায় ৯০ ভাগেই পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পানিবন্দি হয়ে যায় লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার্তদের জন্য ৫১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আর এই আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের সবধরনের সুবিধার ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন। এর পাশাপাশি যারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে তাদের মাঝেও শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও ৯টি কন্ট্রোলরুম ও ৯টি মেডিকেল টিমের সেবা অব্যাহত রয়েছে। তবে মদন উপজেলার বন্যার উন্নতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গোবিন্দশ্রী বড্ডা শান্তিপাড়া গ্রামে শতাধিক পরিবার রয়েছে। কয়েকটি পরিবার গোবিন্দশ্রী বাজারের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। কিন্তু বড্ডা আশ্রয়কেন্দ্র মোহাম্মাদ আলী দখল করে রাখায় বন্যার্ত কেউ আশ্রয় পায়নি। এছাড়া যারা পানিবন্দি রয়েছে কেউ কোন ত্রাণও পায়নি।

গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাইদুল ইসলাম খান মামুন জানান, আগামীকাল গোবিন্দশ্রী গ্রামে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। বন্যার আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইউএনও মহোদয় আশ্রয়কেন্দ্র দখলমুক্ত করে পাঁচটি পরিবার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে তাদের ত্রাণ দিয়েছিলেন। আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যপারে ইউএনওর সাথে কথা বলেন।

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, গোবিন্দশী বড্ডা আশ্রয়কেন্দ্র দখলমুক্ত করে বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে তাদের ত্রাণ দিয়েছিলাম। কেউ আশ্রয়কেন্দ্র দখল করে থাকলে উচ্ছেদ করা হবে। যদি কেউ ত্রাণ না পেয়ে থাকে তাহলে তাদের জন্যে ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমরার,দুঃখ,কাচুমা,আহাজারি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close