বশির আহম্মেদ মোল্লা, নরসিংদী প্রতিনিধি

  ২১ জুন, ২০২২

মেঘনার ভাঙনে বিলীন বসতভিটা, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নে মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে বসতভিটা। সোমবার (২০ জুন) মধ্য রাত থেকে ইউনিয়নের বল্লভপুর ও মহিষভেড় গ্রামের প্রায় ১০টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এ ছাড়াও ভাঙনের মুখে রয়েছে ওই এলাকার আরও অনেক ঘরবাড়ি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পরিবার নিয়ে বাড়িঘর ছাড়ছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুন) ভাঙন এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানায়, রাত আনুমানিক ৩টার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে নদীতে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায় ৫টি বসতঘর। রাতেই মসজিদের মাইকে ভাঙনের কথা বলা হলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে ভাঙনকবলিত বাড়িঘর থেকে লোকজনকে নিরাপদে নেওয়া হয়। তবে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ আসবাবপত্র কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। নদীর পাড়ে আরও অনেক ঘরবাড়ি ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে।

এদিকে চরসুবুদ্ধির মহিষভেড় গ্রামের দুই কিলোমিটার অংশে গত ১৮ জুন রাত থেকে শুরু হওয়া মেঘানার ভাঙনে জমিসহ বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। চরম ঝুঁকিতে বসবাস করছে নদীপাড়ের দুই হাজার মানুষ।

কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে মেঘনায় এই ভাঙন দেখা দেয়। গেল আট বছরের মহিষভেড় গ্রামের দেড়শ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হন। বাস্তুহারা পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা আশ্রয় নিয়েছে অন্যদের বাড়িতে। ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আজগর হোসেন বলেন, চরসুবুদ্ধির মহিষভের এলাকার ভাঙন পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশের শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর ও মহিষভের মাঝামাঝি একটি চর জেগে ওঠেছে। ওই এলাকার ভাঙনরোধ ও পানি প্রবাহের কারণে খুব দ্রুত ড্রেজিং করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাদের বসতভিটা বিলীন হয়েছে, তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সরকারিভাবে তাদের নতুন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
নরসিংদী,নদী ভাঙন,গৃহহীন মানুষ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close