সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

  ২৭ মে, ২০২২

‘আল্লাহ জানি পুলিশ গোরে বাচায়া আহে’

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

স্বামীকে হারিয়েছেন একযুগ ধরে। সেই থেকে ছেলের বউয়ের গলগ্রহ হয়ে আছেন সংসারে। চিকিৎসায় জোটেনা ওষুধ-পথ্য। যাকাতের কাপড়ে সাড়া বছর পাড় করেন। এর পরও খেতে চাইলে ভাগ্যে জোটে নানা গালমন্দ। কোন উপায়না থাকায় ছেলের বউয়ের মর্জি মত খাবারে বেঁচে আছেন বৃদ্ধা ছেবাতন বেওয়া (৭০)।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখি ইউনিযনের গ্রামের ছেবাতন বেওয়া ক্ষুধার জ্বালা আর ছেলের বউয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাজিপুর থানায় যান। থানা ক্যাম্পাসে বৃদ্ধাকে দেখে নিজের কক্ষে নিয়ে আসেন থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল কুমার দত্ত (পিফিএম)। ক্ষুধায় ছটফট করা বৃদ্ধাকে তাৎক্ষণিক খেতে দেন। খাবার শেষে ওসি বৃদ্ধার মুখে শোনেন তার দুর্বিসহ জীবন কাহিনি। সব শুনে পুলিশের একটি টিমকে বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান। এর আগে তিনি ছেবাতনকে পরিধানের কাপড় ও কিছু নগদ অর্থ সহায়তা দেন।

কাজিপুর থানার পুলিশ টিম এই বৃদ্ধা মহিলাকে তার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে তার ছেলে আসাদুল এবং তার বউ চুম্বুলিকে সতর্ক করে দেন। এদিকে পুলিশের উপস্থিতি দেখে চমকে যায় ছেবাতনের ছেলে আসাদুল ও তার স্ত্রী চুম্বুলী খাতুন। এসময় প্রতিবেশীদের ব্যাপক উপস্থিতির কথা জানা যায়। তারা বৃদ্ধা মায়ের সাথে আর কখনও খারাপ আচরণ ও ভাত কাপড়ে কষ্ট দেবেনা বলে থানা পুলিশের নিকট কথা দেন।

কাজিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শ্যামল দত্ত (পিপিএম) জানান, অসহায়কে সহায়তা করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। কষ্ট পেয়েছি এই বয়সে ও ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে হয় বৃদ্ধা মাকে। জানা মাত্র ওই মাকে সামান্য সহায়তা করেছি। যাতে সংসারে আর কষ্ট তিনি না পান সে বিষয়ে তার ছেলেকে সতর্ক করা হয়েছে।

বৃদ্ধা ছেবাতন এ সময় পুলিশদের জন্য প্রার্থনা করে বলেন, ‘আল্লাহ জানি পুলিশ গোরে বাচায়া আহে’।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বৃদ্ধা,পুলিশ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close