নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

  ২১ মে, ২০২২

মাছ বিক্রি করে আর বাড়ি ফেরা হলো না হারেছের

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ।

মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে শনিবার (২১ মে) ভোর রাত বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে আর বাড়ি ফেরা হয়নি হারেছে মিয়া (৪৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হাসানপুর-বাংগড্ডা সড়কের মৌকরা ইউপি বিরুলি গ্রামে শাহ আলী সুপার নামক একটি বাস পুকুরে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার। সে উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউপির রায়কোট গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এলাকায় মাছ ব্যবসা করে আসছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে ভোর রাতে মৌকরা ইউপি মোয়েশ্বহর গ্রামে আলমাছ মেম্বারের চাষের পুকুরে যান। ওখানে মাছ বিক্রি শেষে আকাশে বৃষ্টি দেখে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি রেখে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। হাসানপুর থেকে ছেড়ে আসা শাহ আলী সুপার (ঢাকা মেট্রো- জ-১৪৭১) নাম্বারের একটি বাসে মৌকরা গ্রামে থেকে উঠেন হারেছ। তখন বাসটি চালাচ্ছেন হেলপার কবির। বাসটি বিরুলি গ্রামের ইউছুফের বাড়ির পুকুরে পাড়ে আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়।

দ্রুত স্থানীয় লোকজন বাসে থাকা আহত অবস্থায় ৫ যাত্রীকে উদ্ধার করেন। ড্রাইবার জাহাঙ্গীর বাসে আর কোন লোক নেই বলে পালিয়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে দুটি ক্রেন বাসটি উদ্ধার করতে আসেন। ক্রেন দুটি যখন বাসটি রাস্তায় তুলেন তখনি বাসে চাপা পড়া একটি লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয় লোকজন এটি মাছ ব্যবসায়ী হারেছ মিয়ার লাশ বলে চিহ্নিত করেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন ও ইউছুপ বলেন, আমরা দুইজন পুকুর পাড়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। এ সময় বাসটি পুকুর পড়ে যায় তখন আমরা কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে সকলকে উদ্ধার করি। এসময় হেলপার গাড়ীটি চালাচ্ছিলেন তখন হেলপারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাদের জানায় ৪ জন যাত্রী ছিল বাসে। চার ঘন্টা পর যখন বাসটি উদ্ধার করে তখন বাসের নিচে মরদেহ পাওয়া যায়। সে সময় আমাদের নিষেধ না করলে হয়ত লোকটি বেঁচে যেত। মূলত এ বাসগুলো ঢাকা-চট্টগ্রামে বাতিল হওয়া ফিটনেসবিহীন কুমিল্লা থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী এসকল বাস কয়েকটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে টোকেনের মাধ্যমে চলে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল লালমাই উপজেলার গৈয়ারভাঙা এলাকায় বাস থেকে দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে পেলে দিলে শান্তির বাজারে ৬ ঘন্টা বাস আটকে রাখে। ফিটনেসবিহীন এ সকল বাস চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের স্ত্রী ফিরোজা বেগম স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি বলেন, তার স্বামী মাছ বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। দুপুরের দিকে তার মৃত্যুর খবর শুনি। এ প্রসঙ্গে নাঙ্গলকোট থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্হলে পাঠিয়েছি।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মাছ বিক্রি,বাড়ি ফেরা,হারেছ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close