সালাহউদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

  ১৪ মে, ২০২২

বাজারে উঠতে শুরু করছে কমলগঞ্জের মৌসুমি ফল

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বাজারগুলোতে গ্রীষ্মের মৌসুমি ফল উঠতে শুরু করেছে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময় থেকে জৈষ্ঠ্যমাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত এ ফল বাজারে পাওয়া যায়। বনাঞ্চল অধ্যুষিত উপজেলা থাকায় এখানে কাঁঠাল, আনারস, আম, জাম ও লিচু মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যায়। বরাবরের মতো এবারেও মৌসুমি ফলের ফলন ও বাজারদর ভালো রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশাখের শেষ সপ্তাহ থেকে গ্রামের ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ করে আনারস, কাঁঠাল ও লিচু কিনে ঠেলা বা ভ্যান গাড়ি করে বাজারে নিয়ে আসেন। আবার অনেকে কাঁধভার করে ঝুড়ি সাজিয়ে ফল নিয়ে বাজারে আসেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ বিক্রেতা বাজারে বসে খুচরা বিক্রি করলেও অনেকে আবার পাইকারি বিক্রি করেন। এ উপজেলার কাঁঠাল ও আনসার সারাদেশে বাজারজাত করা হয়।

সরেজমিনে উপজেলার শমশেরনগর, ভানুগাছ, আদমপুর ও মুন্সীবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকার খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে কাঁঠাল, আনারস লিচু ক্রয় করছেন বাজারের স্থায়ী ফল ব্যবসায়ীরা। এসব ফল আকার অনুযায়ী আবার কেউ এক সঙ্গে গড় মিলিয়ে কিনেছেন। আর ব্যবসায়ীরা খুচরা ক্রেতার কাছে কাঁঠাল, আনারস ও লিচু আকার অনুযায়ী বিক্রি করছেন। প্রতি পিছ মাঝারি কাঁঠাল ১০০ থেকে ২০০ টাকা, এক হালি আনারস আকার অনুপাতে ১০০ থেকে ২২০ টাকা, একশ পিছ স্থানীয় লিচু ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ও কেজিপ্রতি আম ৬০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহ পরে এসব ফলের দাম কমে আসবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

শমশেরনগর বাজারে মৌসুমে ফল কিনতে আসা আরিফ আহমেদ বলেন, আমি সবসময় গ্রামের খুচরা ফল বিক্রেতার কাছ থেকে খল কিনি। কারণ তাদের ফলে কোন ফরমালিন যুক্ত থাকে না। বাজারে নতুন ফল এসেছে এ জন্য দাম একটু বেশি। শুধু মাত্র বৈশাখের শেষর দিকে ও জৈষ্ঠ্যমাসে এসব মৌসুমি ফল ইচ্ছেমতো পাওয়া যায়।

উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কাঁঠাল ব্যবসায়ী ময়নুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় টিলা বেশি থাকায় কাঁঠাল গাছও বেশি। একেকটা কাঁঠাল গাছে ২০০ থেকে ১০০০ হাজার কাঁঠাল ধরে। আমরা বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে কাঁঠাল গাছের পুরো কাঁঠাল পাইকারি কিনে নেই। আবার অনেকে সময় ১০০ পিছ হিসাবে কিনি। আমরা কাটালের আকার অনুযায়ী ১০০ পিছ কাঁঠাল ৩০০০ থেকে ৮০০০ হাজার টাকা দিয়ে কিনি। এগুলো আবার বাজারে প্রতি পিছে ১০ থেকে ৪০ টাকা লাভে বিক্রি করি। ঠিক একই রকম আনারস বিক্রির কথা জানালেন আকবর মিয়া নামে এক আনারস ব্যবসায়ী।

উপজেলার ফল ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, মৌসুম ফলে ক্রেতার চাহিদা বেশি। বাজারে প্রতিদিন যে ফল আসছে এগুলোর দাম একটু বেশি থাকায় বিক্রি করতে একটু সমস্যা হচ্ছে। কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও আমের দাম একটু বেশি। কয়েকদিনের মধ্যে এগুলোর মূল্য স্বাভাবিক হয়ে যাবে। স্থানীয় কাঁঠাল, আনারস ও কিছু লিচু বাজারে উঠলেও আমের দেখা খুবই কম মিলছে। জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুরোদমে ফল বিক্রি শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান বলেন, এ উপজেলা কৃষি বান্ধব। এখানে সব ধরনের ফল পাওয়া যায়। এখানকার টিলার মাটি উর্ভর থাকায় অতি সহজে আম, কাঁঠাল, লিচু ও আনারস চাষ করা যায়। বিশেষ করে এখান থেকে কাঁঠাল ও আনারস সারাদেশে বাজারজাত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আস্তে আস্তে বিক্রেতারা মৌসুমি ফল বাজারে তুলতে শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না আসায় মৌসুমি ফলের ফলন ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমলগঞ্জ,সিলেট,মৌসুমি ফল
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close