মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

  ১২ মে, ২০২২

মোশাররফ হত্যার আট বছরেও বিচার পায়নি পরিবার, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু সাদাত খালেদ মোশাররফের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী ১৩ মে। মোশাররফ হত্যার ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পায়নি পরিবার। অনটনের সংসার চলছে চরম কষ্টে। খুনিদের শাস্তি দেখে যাবার আশায় ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে চোখের জলে বুক ভাসান বাবা-মা। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বাবা শহিদুল ইসলাম ও মা সেলিনা খাতুন। এ ব্যাপারে সুবিচার পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে মোশাররফের পরিবার।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৩মে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ-সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আবু সাদাত খালেদ মোশাররফ নিহত হন। নিহত মোশাররফ ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মুজাটি চরপাড়া গ্রামের শহীদুল ইসলামের বড় ছেলে। এ ঘটনায় মোশাররফের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৬ মে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মামলায় ২৬ জনকে আসামি ২০১৫ সালের ১৩মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

আসামিরা সবাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। এরপর মামলা আর খুব বেশি গতি পায়নি। অধিকাংশ আসামি জামিনে রয়েছে। কেউ কেউ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। হত্যা মামলার আসামিরা প্রায় সবাই স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরতে পারলেও ছেলের বিচার পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে নিহত মোশাররফের পরিবার। নানা কারণে বারবার মামলার তারিখ পড়লেও বিচার প্রক্রিয়ার খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।

চলতি মাসের ২৯ মে এই মামলায় স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী শহিদুল ইসলাম। শহিদুল ইসলাম জানান, ছাত্র জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তিনি। পর পর তিনবার তিনি মুক্তাগাছার ৬নং মানকোন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মোশাররফ খুবই মেধাবী ছিল। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স পড়তে ছিল। ইতোমধ্যে সে বিসিএস প্রিলি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আশা ছিল অভাবের সংসারে এবার হয়তো সুখের হাতছানি লাগবে। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য থেকেই মোশাররফ সেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। কিন্তু খুনিরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে সকল পথরোধ করে দেয়।

তিনি জানান, এই বয়সেও তিনি সংসার চালাতে নানা কাজে ছুটাছুটি করতেন। কিন্তু এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হবার পর তিনি এখন আর খুব ভালভাবে চলতে পারেন না। ছোট ছেলেটা এবার এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করছে। কিন্তু অর্থের অভাবে তিনি এখন আর কিছুই করতে পারছেন না। দল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলেও কেউ তার কোন খোঁজ নেয়নি।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অন্তত প্রিয় সন্তান হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। সেজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মোশাররফের মা সেলিনা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি কিছুই চাই না। যারা আমার কলিজার টুকরা সন্তানকে খুন করেছে আমি তাদের বিচার চাই। সে জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চান।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মোশাররফ,হত্যা,প্রধানমন্ত্রী,হস্তক্ষেপ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close