গাজী শাহাদত হোসেন ফিরোজী, সিরাজগঞ্জ

  ১২ মে, ২০২২

ধ্বসে যাওয়া পাকা ব্রিজে গণভোগান্তি

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

সিরাজগঞ্জ শহরের চররায়পুর এলাকায় কাটাখালি নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় এলাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, গত বছর (২০২১ সালে) নির্মিত ব্রিজের পাশে অপরিকল্পিতভাবে সড়ক কেটে দেয়ায় বন্যার পানির তোড়ে পাকা সেতুটি ধ্বসে যায়। গত প্রায় ১ বছরেও এটি নির্মাণ না করায় ওই সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। সামনের বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ আরো বেড়ে যাবে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। ব্রিজ না থাকায় গত ১ বছর ধরে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে মানুষ সীমাহীন কষ্ট ভোগ করেছে।

জানা গেছে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক সড়ক নির্মাণের সময় এই সেতুটি নির্মিত হয়। এদিকে কাটাখালিকে আকর্ষণীয় ও শহরের পয়নিষ্কাশনের জন্য সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়। এরই অংশ হিসাবে কাটাখালি সংস্কার করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের কাজ চলমান অবস্থায়ই গত বছর কাটাখালিতে বন্যার পানি ঢুকে এ অবস্থায় গত বছর ২০ আগস্ট কাটাখালি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চররায়পুরে পাকা সেতু সংলগ্ন সেতুর পশ্চিম পাশের সড়কের অংশ কেটে দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। ওই কাটা অংশে বড় ধরনের চৌং বসিয়ে মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা ছিল, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সেতুর পাশে মাটি কেটে চৌং না দিয়ে ফিরে যায়। পরে এলাবাসীর চাপে একটি বাঁশের পুল করে দিলে দিন-রাত পানির প্রবল চাপে ঐ পুল ভেসে যায়। ফলে সড়কের পাকা সেতু ধ্বসে পড়ে। এতে যানবাহনসহ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলাকাবাসী দুর্ভোগে পড়েন।

এছাড়া সড়কের পুব পাশে মসজিদ, ১টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল, একটি মহিলা মাদ্রাসা ও ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। নড়বড়ে বাঁশের পুলের উপর দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া এই সড়কটি বেলকুচি ও কামারখন্দ উপজেলাসহ আশপাশের প্রায় ২০/২২ গ্রামের মানুষ সিরাজগঞ্জ শহরে যাতায়াতের বাইপাস সড়ক হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন। বিষয়টি সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি বলে তাদের অভিযোগ। এ প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে পাকা ব্রিজের উপর বাঁশের পুল নির্মাণ করে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করেন।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রফেসর সামসুল আলম মিরন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় সেতু ভেঙে গেছে। বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ। এই নড়বড়ে বাঁশের পুলের উপর দিয়ে বৃদ্ধ ও শিশুরা যেতে পারছে না।

তিনি আরো বলেন একটি পাকা ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও কেন এখানে সড়ক কেটে দেয়া হলো তা আমরা বুঝতে পারছি না। এব্যাপারে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

সাবেক পৌর কাউন্সিলর ময়দান আলী খান বলেন, এ রাস্তা দিয়ে বনবাড়িয়া, পাইকপাড়া, ঠাকুরট্যাক, রামগাতীসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। যানবাহন ও মানুষকে অনেক রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

বর্তমান পৌর কাউন্সিল সাইফুল ইসলাম ও রুমানা খাতুন রেশমা বলেন, এই সড়ক কাটার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড পৌরসভার কাছ থেকে অনুমোদন নেয়নি। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড সেতুটি নির্মাণ করবে বলে কথা দিয়েছে। তবে কবে নির্মাণ হবে তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। তারা আরও বলেন, চলাচলের জন্য এলাকাবাসীই বাঁশের চাড় (পুল) দিয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, উল্লেখিত স্থানে অত্যাধুনিক সেতু নির্মাণকরা হবে। এব্যাপারে নকশা তৈরি করে ঊর্ধতন মহলে অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে টেন্ডার ডেকে চলতি বছরই সেতু নির্মাণ করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সিরাজগঞ্জ,চররায়পু,কাটাখালি নদী,ব্রিজ ধস,দুর্ভোগ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close