মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

  ১৭ জানুয়ারি, ২০২২

১৪ বছর পর উৎপাদনে যাচ্ছে মিরসরাই মৎস্য খামার

দীর্ঘ ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর আবারো পুরোদমে উৎপাদনে যাচ্ছে মিরসরাইয়ের একমাত্র সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে একর ভূমিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া খামার পুনরায় চালু হওয়ার খবরে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের মুখে ফুটছে আশার হাসি।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় মৎস্যচাষিদের সার্বিক পরামর্শ, প্রশিক্ষণ স্বল্প দামে পোনা সরবরাহের জন্য ১৯৭৭ সালে সরকার প্রতিষ্ঠা করে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার নামের প্রতিষ্ঠান।

রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী জাতের মাছের পোনা উৎপাদন শুরু করলেও নানা জটিলতায় একটা সময় এখানকার কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। পরে সরকার এটিকে গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে ইজারা দেয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে পুনরায় সরকারের মৎস্য প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হয়। এরপর রক্ষণাবেক্ষণ জনবলের অভাবে একটা সময় এটির কার্যক্রম পুরোদমে বন্ধ হয়ে যায়।

আশার কথা হচ্ছে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গত বছর হ্যাচারীতে ৮টি পদের মধ্যে খামার ব্যবস্থাপক, অফিস সহায়ক, পাম্প অপারেটর নিরাপত্তারক্ষীসহ মোট ৪টি পদে নিয়োগের মধ্য দিয়ে পুনরায় এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহায়তা প্রদান চালু হলেও হ্যাচারী উৎপাদনে যাবে চলতি বছর এপ্রিল অথবা মে মাসের দিকে।

মিরসরাই উপজেলা মৎস্য অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার একর জমিতে রয়েছে মৎস্য খামার। যেখান থেকে প্রত্যেক বছর ৪৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন বাজারজাত হয়।

প্রতি বছর এসব মৎস্য প্রকল্প থেকে হাজার ২৭ কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেন চাষিরা। এতদিন মিরসরাই মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে বীজ উৎপাদন বন্ধ থাকায় এখানকার মৎস্যচাষিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশি দাম দিয়ে পোনা কিনে আনেন চাষ করার জন্য। বর্তমানে এটি চালু হওয়ার খবরে চাষিরা বেশ খুশি।

মিরসরাইয়ের ইছাখালী ইউনিয়নের টেকেরহাট এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি জানান, ‘২০২১ সালে এখানকার একমাত্র সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার তাদের কার্যক্রম শুরু করার দরুণ আমরা খামার মালিকেরা লাভবান হচ্ছি। খামারের ব্যবস্থাপক প্রশিক্ষণ সার্বিক দিক নির্দেশনা দিয়ে আমাদের সহায়তা করছেন। পোনা উৎপাদন শুরু হলে আমরা আরো বেশি উপকৃত হবো।

মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্টের মৎস্য খামারি আনোয়ার এগ্রো লিমিটেডের সত্ত্বাধিকারী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার একর জমিতে কার্প জাতীয় মাছ চাষ করা হয়। যেখানে প্রতি একরে হাজার করে প্রায় ৬০ লাখ মাছের পোনা প্রয়োজন হয়। মিরসরাইতে পৃথক ভাবে গলদা বা বাগদা চিংড়ি চাষ হয়না। সাদা মাছের সাথে মিশ্রভাবে চিংড়ি চাষ করা হয়। চিংড়ির পোনা প্রায় ৩০ লাখের চাহিদা রয়েছে। মিরসরাইয়ের খামারিরা মংমনসিংহ, বগুড়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী ফেনী থেকে কার্প জাতীয় ও চিংড়ির পোনা সংগ্রহ করে। এতে করে ট্রান্সপোর্ট ব্যয় হয়। এছাড়া দূর থেকে আনার কারণে অনেক সময় পোনা মারাও যায়। মিরসরাই মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্র চালু করা হলে এখানকার খামারিরা এর সুফল পাবে। গাড়ি ভাড়া সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানের পোনাও পাওয়া যাবে।

মিরসরাই মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘২০২১ সালে অর্ধেক জনবল নিয়োগের পর থেকে আমরা খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মাছ উৎপাদনে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছি। ইতোমধ্যে চলতি অর্থ বছরে খামারের ৫টি পুকুর সংস্কার করা হয়েছে। এখানে তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের কোয়ারেন্টেন্ড ল্যাব। বর্ষা মৌসুমের শুরুতে পোনা উৎপাদনে যেতে পারবো। আমরা শুরুতে কার্প জাতীয় মাছের পোনা উৎপাদনে যাবো।

মিরসরাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, মিরসরাইয়ে প্রায় হাজার খামারি মৎস্য চাষের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যেখানে প্রত্যেক বছর প্রচুর পরিমাণে কার্প জাতীয় মাছের পোনা প্রয়োজন হয়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মৎস্য খামার,মিরসরাই
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close