মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

  ১২ জানুয়ারি, ২০২২

পিতার সাথে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছে শিক্ষার্থী সালমা!

বয়স যখন লেখাপড়া ও খেলাধুলার তখনি পিতার সঙ্গে ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমেছে শিশু শিক্ষার্থী সালমা খাতুন(১১)। অভাব-অনটনের সংসারে খাদ্য জোগাড়সহ পারিবারিক অন্যান্য চাহিদা পূরণে পিতার সাথে ভিক্ষাবৃত্তিতে যেতে হয় তাকে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নতিপোতা ইউনিয়নের হোগলডাঙ্গা গ্রামের মাঝপাড়ার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ইসলাম হোসেনের(৫৫) স্ত্রী, এক ছেলে, ও দুই মেয়ের সংসার। ভিটা জমিটুকু ছাড়া অন্য কোন জমিজমা নেই। বাধ্য হয়ে তাকে ভিক্ষা করতে বের হতে হয়।

শিশু শিক্ষার্থী মেয়েকে নিয়েই গ্রাম, শহর, হাট বাজারে প্রতিদিন ভিক্ষা করতে বের হতে হয়। সন্ধা নামার আগেই বাড়ি ফেরে তারা। রাতের খাওয়া শেষ করে পড়তে বসে শিশু শিক্ষার্থী সালমাকে। মাঝে মাঝে স্কুলেও যেতে হয় তাকে। সে এবার হোগলডাঙ্গা গ্রামের উত্তরপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেছে। এখন ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তি হবে সে।

দুদিন আগে দামুড়হুদা মডেল থানার সম্মুখে দেখা মেলে এই সংবাদকর্মীর সাথে ভিক্ষুক পিতা ও শিশু শিক্ষার্থী সালমার। এ সময় সালমা বলে, স্কুলে ভর্তি হতে টাকা লাগবে। আমাকে সহযোগিতা করুন। আমাদের কোনো টাকা পয়সা নেই। প্রতিদিন এভাবে যে টাকা আমাদের আয় হয় তাতেই আমাদের চলে না। আমি ভর্তি হতে পারলে ভালো করে লেখাপড়া করতে পারবো।

ভিক্ষুক পিতা ইসলাম হেসেন বলেন, সংসারের খাদ্য জেগাড় করা ও মেয়ের পড়ালেখা করাতে বাধ্য হয়েই এই ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় নেমেছি।

হোগলডাঙ্গা গ্রামের উত্তরপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাফায়েত হোসেন জানান, সালমা খাতুন লেখা পড়ায় ভালো। স্কুল থেকে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা তাকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীর পরিবারটি অন্যানা সুবিধাও পেয়ে থাকে। তাকে হাই স্কুলে ভর্তির জন্য সহযোগিতা করা হবে।

হোগলডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল আলম বলেন, সরকারি নির্ধারিত ভর্তি অফিস ফিস আছে। কিন্তু অসহায়, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ভর্তি ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে।

নতিপোতা ইউপি চেয়ারম্যান ইয়ামিন আলি জানান, অর্থের অভাবে যদি সে ভর্তি না হতে পারে তাকে ভর্তি হতে সহযোগিতা করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
দামুড়হুদা,চুয়াডাঙ্গা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close