বেনাপোল প্রতিনিধি

  ০৯ ডিসেম্বর, ২০২১

শিক্ষা অফিস থেকে ২২ শিক্ষকের সার্ভিস বই গায়েব

যশোরের শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২২ জন শিক্ষকের সার্ভিস বই গায়েব হয়ে গেছে। ৪৩টি সার্ভিস বই গায়েব হওয়ার এক মাস পর শিক্ষা অফিসের পেছন থেকে উদ্ধার করা হয় ২১টি বই।

শিক্ষকরা বলছেন, অর্থ আদায়ের কৌশল হিসেবে কাজ করেছে শিক্ষা অফিসার নিজেই। হারিয়ে যাওয়া সার্ভিস বইয়ের দায় কেউ নিচ্ছে না। সার্ভিস বই হারিয়ে যাওয়ায় ২২ জন শিক্ষকের বেতন ভাতা অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্তি, চাকরির নিশ্চয়তা এবং স্থায়ীকরণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

যশোরের শার্শা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৩ জন শিক্ষকের সার্ভিস বই হারিয়ে যায় কবে তা কেউ জানেন না। গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে কয়েকজন শিক্ষক তাদের সার্ভিস বই খুঁজতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে নভেম্বর ব্যাপারে শার্শা থানায় একটি জিডি করেন শিক্ষা অফিসার। এর কয়েকদিন পর ২১টি সার্ভিস বই পাওয়া যায় অফিসের পেছনে। এখনো পাওয়া যায়নি ২২টি সার্ভিস বই।

শার্শার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম পূর্বে এই উপজেলায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি পেয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হয়ে তিনি পুনরায় এই উপজেলায় ফিরে আসেন ২০২০ সালের অক্টোবর। আর এসেই শুরু করেনটু পাইস কামানোর কাজ

শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকদের নবম দশম গ্রেড, শ্রান্তি বিনোদন ভাতা, দশ বছর পূর্তিতে স্কেল পরিবর্তনসহ অন্যান্য কাজে এই সকল শিক্ষকের কাছে থেকে ধার্য্যকৃত উৎকোচ আদায় করতেই শিক্ষা অফিসার সার্ভিস বই হারিয়ে যাওয়া বা চুরির নাটক সাজিয়েছেন।

তারা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের সার্ভিস বই তার স্ব স্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আলমারি বা লকারে সংরক্ষণ করে থাকেন। একজন সরকারি চাকরিজীবীর ব্যক্তিগত তথ্য, পেশাগত তথ্য, আর্থিক সুবিধাদির সকল বিবরণ সার্ভিস বইতে ধারাবাহিকভাবে চাকরি শুরু হতে শেষ দিন পর্যন্ত লিপিবদ্ধ হয়ে থাকে।

শিক্ষকের সার্ভিস বই উধাও হয়ে যাবার পরও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার যশোর বিষয়টি জেনেও ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছেন। উপরান্ত সার্ভিস বই হারিয়ে যাবার বিষয়টি যেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো না হয় সে জন্য ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের নানা ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শার্শা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২৫টি। শিক্ষা অফিসার বিদ্যালয় উন্নয়ন পরিকল্পনা যাকেস্লিপবলে এই খাত থেকে স্কুল প্রতি থেকে ১০ হাজার টাকা করে চলতি বছরে আদায় করেছেন। বিদ্যলয়ের ওয়াশব্লক, রুটিন মেইন্টেনেন্স, ক্ষুদ্র মেরামত, নতুন ভবন নির্মাণ, রেস্ট এন্ড রিক্রেয়েশন, ভ্রমন ভাতা, স্কুল কন্টিনজেন্সি, বিজয় শোক দিবসের বরাদ্দসহ সকল খাতে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ নিয়েই তবে তিনি বিল ভাইচারে স্বাক্ষর করেন। উপজেলায় কর্মরত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সাথে এই অন্যায় কাজ নিয়ে তার সম্পর্ক একেবারেই শীতল পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাঝে মাঝে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে ফাঁসাতে অফিসের শিক্ষকদের মধ্যে কেউ সার্ভিস বই গুলো চুরি করেছে। সার্ভিস বই চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে গত নভেম্বর শার্শা থানায় একটি জিডি করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। আইন শৃঙ্খখলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সার্ভিস বই উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান। ফান্ড পেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
গায়েব,সার্ভিস বই,শিক্ষা অফিস
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close