নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৭ ডিসেম্বর, ২০২১

ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয়ের প্রকল্প পেল কুসিক 

‘প্রিয় শহরকে সুন্দর দেখতে চেয়েছি, আশা পূরণ হয়েছে’

কুমিল্লা শহরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য এতো বড় বাজেটের প্রকল্প পাশের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, কুমিল্লা শহরকে নিয়ে আমার বড় প্রকল্প দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। প্রিয় শহরটাকে সুন্দর দেখতে চেয়েছি। আশা পূরণ হয়েছে, বড় মাপের অর্থ ব্যয়ের প্রকল্প পাশ হওয়ায় শান্তি পাচ্ছি। তিনি এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, মন্ত্রী হওয়ার পর প্রাণের শহর কুমিল্লার জন্য কিছু করতে পেরেছি বলে তৃপ্তি অনুভব করছি।

সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম গত বছর এক সফরে কুমিল্লার এলজিইডি ভবনে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় তার কাছে ১৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দের দাবি জানান সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। তখন তিনি বলেন, আপনারা আমার কাছে মাত্র ১৫০ কোটি টাকা চাচ্ছেন কেন, আমার প্রিয় শহরের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা চাইতে পারেন।

এরপরই কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে তিনি মেঘা প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশ দেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে শহরের উন্নয়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বড় প্রকল্প প্রস্তাব পাঠান। ওই প্রস্তাব নানা যাচাই বাছাইয়ের পর আজ একনেক বৈঠকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় অনুমোদন হলো।

জানা গেছে, অনুমোদিত ব্যয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে নতুন রাস্তা, সিটি করপোরেশনের নতুন ভবন, আঞ্চলিক অফিস, গণশৌচাগার, কয়েকটি দিঘিরর সৌন্দর্যবর্ধন, গোমতী নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ রয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, কুমিল্লা শহরের জন্য প্রকল্প ব্যয় অনুমোদনসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১০টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটিই অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে সাত হাজার ৪৪৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে তিন হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। মডেল মসজিদ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে ৭১৩ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি সংশোধিত ও পাঁচটি নতুন।

তিনি জানান, প্রতি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের ব্যয় ৭১৩ কোটি টাকা বাড়ছে। ২০২০ সালের মধ্যে সব কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি মাত্র ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হয়। মূল অনুমোদিত প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এরপরে অনুমোদিত প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ধরা হয় ৮ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। এবার প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধিত মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ফলে প্রকল্প ব্যয় ৭১৩ কোটি টাকা বাড়ছে।

নানা কারণে প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। কতিপয় খাত যেমন অফিসারদের বেতন, বিদ্যুৎ, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, নিবন্ধন ফি, পেট্রল, লুব্রিক্যান্ট, গ্যাস ও জ্বালানি, অন্যান্য মনোহারি, মোটরযান মেরামত ও সংরক্ষণ, অফিস সরঞ্জাম, ভবন নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে।

এছাড়া আপ্যায়ন ব্যয়, চুক্তিভিত্তিক যানবাহন ব্যবহার, ব্যাংক চার্জ, সাকুল্য বেতন, কুরিয়ার, যাতায়াত ব্যয়, আউটসোর্সিং, শ্রমিক মজুরি, নিয়োগ পরীক্ষা, মুদ্রণ ও বাঁধাই, অন্যান্য মনোহারি (গণপূর্ত), ডিজাইন ও ড্রইং (গণপূর্ত), আসবাবপত্র মেরামত ও সংরক্ষণ, কম্পিউটার মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অফিস সরঞ্জামাদি মেরামত ও সংরক্ষণ, অন্যান্য যন্ত্রপাতি মেরামত ও সংরক্ষণ, অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন কাজ অন্তর্ভুক্ত করায় মূলত ব্যয় ও সময় বাড়ছে।

এছাড়া ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তি দক্ষতা প্রকল্পে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়। একনেকে ‘ডিজিটাল গভর্নমেন্ট ও অর্থনীতি সমৃদ্ধকরণ’ নতুন প্রকল্প একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। ‘সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্পের ব্যয় হবে ৩২২ কোটি টাকা। ‘ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ১ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। ‘বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৩ কোটি টাকা।

মোংলা থেকে চাঁদপুর-মাওয়া-গোয়ালন্দ হয়ে পাকশী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত নতুন নৌরুট খনন করা হবে। নৌপথের মোট দূরত্ব ৪৬০ কিলোমিটার। নৌপথ খননে ব্যয় বাড়ছে আরও ৩৩৪ কোটি টাকা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী মালামাল পরিবহনের জন্য এ রুটের গভীরতা বাড়ানো হবে। ৫ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশের গভীরতা) জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর জন্যই মূলত খনন করা হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওতায় চট্টগ্রাম ও রাজশাহী ক্রীড়া স্কুল প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুর) বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৪৫৬ কোটি টাকা। প্রকল্প ১০টি চূড়ান্তভাবে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী,কুসিক
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close