কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

  ০৪ ডিসেম্বর, ২০২১

কমলগঞ্জের সফল উদ্যোক্তা শাহিনা

শাহিনা আক্তারের জীবনের গল্পটা একটু অন্য রকম। বেশ সুখে চলছিল সংসার। কিন্তু ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকতে থাকতে মৃত্যু হয় স্বামীর। এক ছেলেকে নিয়ে কী করবেন বা কোথায় যাবেন এসব ভাবতেই কেটে যায় দুই থেকে তিন মাস। এর মধ্যে চলে আসে করোনা মহামারির ভয়াল থাবা। জীবনের ওপর দিয়ে বড় ঝড় বয়ে গেলেও দমে যাননি তিনি।

টুকটাক সেলাই এর কাজ জানতেন। তার পাশাপাশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করতেন। চিন্তা করলেন এই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে যদি কিছু করা যায়। নিজ বাড়িতে শুরু করেন সেলাই ও অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম। শুরুতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়লেও শাহিনাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি আজ একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। নিজের মেধা-শ্রম দিয়ে নারী হয়েও তিনি আজ স্বাবলম্বী।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা থেকে কাজের মূল্যায়ন হিসেবে সম্মাননা সনদ দেন তাকে। ২০১৮ সালে এটুআই প্রকল্প কর্তৃক আয়োজিত উদ্যোক্তা সম্মেলনে দেশ সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে তাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।

শাহিনা মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়কুট গ্রামের মো. লোকমান মিয়ার মেয়ে।

শাহিনা বলেন,আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব কষ্টে সংসার চলছিল। কি করবো তখন পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। চিন্তার করলাম পরিবারে বোঝা হয়ে থাকবো না। করতাম ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারে কাজ। তা দিয়ে কোন রকম চলতো সংসার। পরিবারও অনেক বড়। এই সামান্য টাকা দিয়ে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সেলাইর কাজ জানা থাকায় করি অনলাইনে ব্যবসা। আস্তে আস্তে আমি সফল হই। বর্তমানে আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি। এখন নিজেকে সফল উদ্যোক্তা মনে হয়। আমার মতো এভাবে সবাই এগিয়ে আসলে কেউ কারো বোঝা হবে না। সফল উদ্যোক্তা হবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার আহমেদ বদরুল বলেন, শাহিনা দীর্ঘদিন যাবত ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে ব্যবসা করেছেন। তিনি সফল একজন উদ্যোক্তা।

তিনি আরও বলেন, আমি তার সফলতা কামনা করছি। তার সাথে বেকার মেয়েদেরও বললো শাহিনার মতো কাজে এগিয়ে আসতে। এতে করে নিজের এবং পরিবারের অনেক উপকার হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
সফল উদ্যোক্তা,কমলগঞ্জ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close