মো. আইয়ুব হোসেন খান, মাগুরা

  ৩০ নভেম্বর, ২০২১

পানচাষিদের দুর্দিন!

চলতি বছরে মাগুরার পানচাষিদের দুর্দিন চলছে। বানিজ্যিক ভিত্তিতে জেলায় পান চাষ শুরু না হলেও পান চাষে অনেক সাফল্য রয়েছে। এ চাষে গত বছর পানচাষিরা অনেক লাভবান হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের। ফলে পানচাষিরা রয়েছেন বিপাকে ।

মাগুরা সদরের আঠারোখাদা ইউনিয়নের অক্কুর পাড়া গ্রামের পানচাষি দিদল বিশ্বাস জানান, এ চাষে পরিশ্রম ও খরচ বেশি। চলতি বছরে আমি ১৫ শতক জমিতে পান চাষ করেছি। জমিতে মাটি পিলি করে ফাল্গুন মাসে পান গাছের বীজ রোপন করি। তারপর বাশেঁর মাচা তৈরি করে সুতা টানাতে হয়। গাছ একটু বড় হলে লাঠিতে বেধে দিতে হয়। এরপর পরিচর্যা বাড়াতে হবে। পান গাছের লতা বড় হতে শুরু করলে খইল দিতে হবে। পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে বাঁচাতে প্রয়োজন মতো ওষুধ দিতে হবে। একটি পান গাছ পরিপক্ক হতে ৫-৬ মাস সময় লাগে। গাছ পরিপক্ক হলে একটি পান গাছে ১৫-২০ পান ধরে। নিয়মিত পরিচর্যার ফলেই গাছে ভালো পান ধরবে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর পানের চাহিদা বেশি ছিল। বিভিন্ন স্থানের পাইকারি আড়তদাররা জেলায় এসে পান ক্রয় করে নিয়ে যেত। পানের বাজার ভালো থাকায় আমরা ভালো দামও পেয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর জেলার পানের বাজার খুবই খারাপ থাকায় আমাদেও উৎপাদন খরচই উঠছে না। ১০ বছর ধরে আমি এ চাষ করছি। সবকিছুই মিলিয়ে এবার পানের ভালো ফলন হলেও আমাদের চলছে দুর্দিদিন।

একই গ্রামের অন্য পানচাষি রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, এ বছর পান চাষের ফলন ভালো হলেও লাভের চেয়ে লোকসান হচ্ছে বেশি। সার, বীজ ও শ্রমিক বাদ যে খরচ হচ্ছে তাতে বেঁচে থাকাই কষ্ট। এ চাষে পরিশ্রম বেশি কিন্তু লাভ কম। গত বছর ভালো পানের পান ৭০-৮০ টাকা পোন, মাঝারি সাইজের ১ পোন পান ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এ বছর পানের চাহিদা কম এবং দামও কম। বাজারে ভালো মানের ১ পোন পান আমরা পাইকেরি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি করছি। আর মাঝারি সাইজের পান ১ পোন ১৫-২০ টাকায় পাইকেরি দাম। ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ উঠছে না বরং ভর্তুক্তি দিতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই চাষ থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ চাষের পাশাপাশি আমি ধান, পাট, সরিষাসহ অন্যান্য করছি। তাতে ভালো লাভ হচ্ছে।

পানচাষি রাজকুমার, নৃপেন বিশ্বাস, সত্যেন বিশ্বাস ও মনিকুমার আক্ষেপ করে বলেন, প্রায় ১৫ বছর আমরা এ চাষের সাথে যুক্ত। বাপ-দাদার এ চাষ আমরা বংশ পরাপর করে আসছি। এ চাষে এখন পর্যন্ত কৃষি বিভাগ থেকে আমরা কোন পরামর্শ বা সহযোগিতা পাইনি। কোন কৃষি কর্মকর্তা আমাদের মাঠ পরিদর্শনে আজও আসেনি। তাই আমরা সকল চাষে তাদেও সহযোগিতা কামনা করছি।

তারা আরও বলেন, এ বছর পানের বাজার মন্দা থাকায় আমরা খুবই বিপাকে আছি। শ্রমিক খরচসহ অন্যান্য খরচে আমাদের নিজের পুজিঁ খরচ করতে হচ্ছে ফলে চাষিরা এ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, জেলায় পান চাষের উৎপাদন খুবই কম। জেলার সব অঞ্চলে এ চাষ হয় না। এ চাষে জেলার কৃষকদের আগ্রহ কম। চলতি বছর ১০ হেক্টর জমিতে জেলায় পান চাষ হয়েছে। যদি এ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ে তবে কৃষি বিভাগ তাদেরকে যথাযথ পরামর্শ ও সহযোগিতা করবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পানচাষি,দুর্দিন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close