মাসুদ রানা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)

  ৩০ নভেম্বর, ২০২১

নাব্যতা সংকটে ব্রহ্মপুত্রে নৌ চলাচল ব্যাহত

নাব্যতা সংকটে ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে কুড়িগ্রাম, চিলমারী, ফকিরের হাট, রৌমারী ও রাজিবপুর নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। গত একমাস ধরে নাব্যতা সংকট থাকলেও তা উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নৌপথে যাতায়াতকারী যাত্রী ও নৌকার মাঝিরা।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সাড়ে ১২টার দিকে বলদমারা নৌকা ঘাটে পৌঁছালে নৌকাঘাটের ভাড়া আদায়কারী মো. আলতাব হোসেন বলেন, একমাস থেকে বলদমারা নৌকাঘাট থেকে ফকিরের হাট নৌকা সরাসরি যায় না, ফুলুয়ারচর হয়ে ঘুরে যেতে হয়।

ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে বালু মাটি ভরাট হয়ে চর জেগে উঠায় মালামাল ও যাত্রীবাহী নৌকা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নৌকা চলাচল না করায় নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের বালু ও পাথর আনা যাচ্ছে না।

পাথর ব্যবসায়ী মো. নাসির খান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি হ্রস ও নদীর বুকে ছোট ছোট অসংখ্যক চর জেগে ওঠার কারণে পণ্যবাহী নৌকা রৌমারী, বলদমারা ঘাটে আসেনা। ফকিরের হাট, চিলমারী, কুড়িগ্রাম নৌকা ঘাট থেকে মালামাল নৌপথে রৌমারী আনা যাচ্ছে না, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মখে পড়েছে। জরুরী ভিত্তিতে নদী ড্রেজিং করে নৌপথ সচল না করলে নৌপথে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

বাগুয়ারচর গ্রামের রিপন মিয়া বলেন, বলদমারী ঘাট থেকে আমরা এক ঘন্টা মধ্যেই ফকিরের হাট ঘাট যাইতাম, সকাল ১০টার মধ্যেই কুড়িগ্রাম কোর্টে পৌঁছানো যেতে আদালতে হাজিরা দিয়ে আবার বাড়ি আসতাম, এখন সকালে বাড়ি থেকে বের হলেও নদীতে পানি না থাকায় কুড়িগ্রাম পৌঁছাতে ১২টা বাজে। এ কারণে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার হাজার মানুষ হয়রানিতে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজু আহম্মেদ বলেন, নাব্যতা সংকটে নৌপথের দূরত্ব বেড়েছে। খরচ ও সময়ও বেশি লাগছে। আমরা সময়মতো হাটে পণ্য নিতে পারছি না। ব্যবসায়ীকভাবে খারাপ সময় যাচ্ছে।

নৌকার মাঝি সামেজউদ্দিন বলেন, ফলুয়ারচর ও বলদমারা থেকে ফকিরের হাট ঘাটে নৌকা যেতে প্রায় তিন ঘন্টা সময় লাগে, আগে এক ঘন্টায় যাইতাম, পানি না থাকায় সময় বেশি লাগে। নদী মধ্যে নৌকা আটকা গেলে সারা দিন শেষ হয়ে যায়, যাত্রীরা হরানির মধ্যে পড়ে, আমাদের নদী পথে ব্যবসার দিন শেষ।

স্থানীয় এনজিও’র সিএসডিকে নির্বাহী পরিচালক মো. আবু হানিফ মাস্টার বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে দুই তীর ভেঙ্গে মাটি পড়ে নদটির গভীরতা হারিয়েছে। ড্রেজিং করে নদে গভীরতা ফিরিয়ে দিলে নৌপথ সচল হবে এবং দুই তীর বসবাসরত মানুষ ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পাবে।

রৌমারী ঘাটের ইজারাদার মাহাতাব হোসেন বলেন, নাব্যতার সংকটের কারণে আমাদের আয় কমেছে আশংকাজনহারে। নদের পানি কমে গিয়ে ডুবো চর সৃষ্টি হওয়ায় উলিপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নসহ রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার সঙ্গে চিলমারী, ফকিরের হাট, কুড়িগ্রাম নৌঘাটে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নাব্যতা সংকট দূর করতে নৌপথ ড্রেজিং করে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া সম্ভবনা আছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদী বুকে ছোট ছোট চর জাগায় নদের পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে নাত্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ব্যাহত,রৌমারী,কুড়িগ্রাম
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close