ইউসুফ আলী সুমন, মহাদেবপুর (নওগাঁ)

  ২৯ নভেম্বর, ২০২১

নিয়মনীতি উপেক্ষিত!

মহাদেবপুরে অফিস ফাঁকি দিচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা!

“বারোটায় অফিস আসি, দুটোয় টিফিন। তিনটেয় যদি দেখি সিগন্যাল গ্রীন, চটিটা গলিয়ে পায়ে, নিপাট নির্দ্বিধায় চেয়ারটা কোনোমতে ছাড়ি। কোনো কথা না বাড়িয়ে, ধীরে ধীরে পা বাড়িয়ে চারটেয় চলে আসি বাড়ি। আমি সরকারি কর্মচারী।”

ওপার বাংলার প্রতিবাদি কন্ঠশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী এই গানের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারিদের অফিস ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। এরই বাস্তব চিত্র দেখা গেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সরকারি অফিসে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ইচ্ছেমতো অফিস করছেন উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের বেশির ভাগ কর্মকর্তা। এতে ভোগান্তির শেষ নেই সেবাপ্রত্যাশীদের।

মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়, সকল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের সকাল ৯ টায় নিজ দপ্তরে উপস্থিত হতে হবে। এরপর হাজিরা দিয়ে বাইরে যদি অফিসের কোনো কাজ থাকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত দপ্তরে অবস্থান করে সেই কাজে যেতে হবে। কিন্তু এ নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান কারার নিয়ম থাকলেও কেউ কেউ দুপুরে বাসায় খেতে গিয়ে সেদিন আর অফিসে ফেরেন না। আবার কোনো কোনো কর্মকর্তা স্টেশনে অবস্থান করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই। ফলে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মচারি শৃঙ্খলা আইন ২০১৪-এ বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা কর্মচারি পরপর দুইদিন দেরিতে কার্যালয়ে আসলে তার এক দিনের মূল বেতন কাটা যাবে। অফিসের সময় শেষ হওয়ার আগে বের হয়ে গেলেও এক দিনের বেতন কেটে নিবে সরকার। কিন্তু আইন এর প্রয়োগ নেই। আইনটি কাগুজে আদেশে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা পেরিয়েছে। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের দরজা বন্ধ, ঝুলছে তালা। ১০টা ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করেও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন সরকারকে অফিসে পাওয়া যায়নি। সাড়ে ১০টার আগে তিনি অফিসে আসেন না বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

ঘড়ির কাটা ৯টা ২৫ ছুঁইছুঁই সমাজসেবা অফিসে গিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। অথচ ৯টা থেকেই অফিসে তার দায়িত্ব পালন করার কথা। একই চিত্র উপজেলা আনসার ও ভিডিপি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, খাদ্য নিয়ন্ত্রক, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, মাধ্যমিক শিক্ষা, সমবায় ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের। এদিকে অফিস ফাঁকি দেওয়া কর্মকর্তা কর্মচারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাপ্রত্যাশীরা।

অফিস ফাঁকি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন সরকার জানান, তার আত্মীয় এসেছিলেন; সকালে গাড়িতে উঠিয়ে দিতে গিয়ে অফিসে আসতে দেরি হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান মিলন জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মহাদেবপুর,নওগাঁ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close