reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৮ নভেম্বর, ২০২১

মুদি দোকানেও বিক্রি হয় গ্যাস সিলিন্ডার, প্রাণহানির আশঙ্কা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নেত্রকোনার মদনে মুদির দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার। এসব বিক্রেতাদের নেই কোনো বিস্ফোরক লাইসেন্স, নেই সংরক্ষণ জ্ঞানও। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশষ্কা রয়েছে।

উপজেলার পৌরসভাসহ আট ইউনিয়নের চিত্র একই রকম। উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ইলেকট্রনিকের দোকান, ওষুধ, মুদি, মনোহরিসহ বিভিন্ন দোকানেও বিক্রি হচ্ছে এসব সিলিন্ডার।

নিয়ম অনুযায়ী, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুত স্থানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও। এ ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও জ্বালানি অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধানও রয়েছে, কিন্তু এ নিয়ম এখানে মানা হচ্ছে না। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

বিস্ফোরক পরিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, খুচরা দোকানে বিক্রির জন্য সর্বোচ্চ ১০টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা যায়। ১০টির বেশি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করতে হলে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, কিন্তু এ উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছে দুই শতাধিক দোকান। এক্ষেত্রে কেউই সরকারি নির্দেশনা মানছেন না।

উপজেলার দেওয়ান বাজার, পৌর সেন্টার, মদন বাজার, বালালী বাজার, ফতেপুর বাজার, কাইটাইল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুদির দোকান, তেলের দোকান, ঝুপড়ি, চায়ের দোকান, ইলেকট্রনিকের দোকান এমনকি ওষুধের দোকানেও অবাধে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশসহ জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার গুদামজাত করা হয়েছে।

মদন পৌর সেন্টারের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা রাজ লক্ষি ইলেকট্রনিকের মালিক সুজিত রায় জানান, ফায়ার সার্ভিস থেকে অনুমতি নিয়েছি। তবে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের গিয়ে ছিলাম লাইসেন্স করার জন্য, কিন্তু সেখানে অনেক দালাল ধরতে হয়। অনেক টাকা-পয়সার ব্যাপার। আরেক বিক্রেতা বিসমিল্লাহ ইলেকট্রনিকের মালিক মাইনূল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের ৬ মাস হয়েছে টাকা জমা দিলেও এখনো লাইসেন্স পাচ্ছি না। কবে পাব তাও বলা যাচ্ছে না।

এলাকার সচেতন মহল বলছেন, পৌরসদরসহ উপজেলার সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকান হচ্ছে তাতে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এ ব্যাপারে তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

মদন ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন অফিসার আহমেদুল কবির জানান, ইদানিং মানুষ এলপি গ্যাসের ব্যবহারের উপর নির্ভশীল হয়ে পড়ছে। আমরা প্রত্যেক দোকানিকে নিয়মনীতি মেনে ফায়ার লাইসেন্স করে দোকান পরিচালনা করার জন্য তাগিদসহ নিয়মিত মনিটরিং করছি।

এ বিষয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, শিগগিরই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ দোকানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মুদি দোকান,গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি,দুর্ঘটনার আশঙ্কা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close