আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

  ২৭ নভেম্বর, ২০২১

রক্তদহ বিলে আগাম ইরি-বোরো লাগানোর ধুম

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় বহুল পরিচিত ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল ও তৎসংলগ্ন ১৩টি খাল দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পানি শুকিয়ে যায় এবং ক্রমেই তলদেশ ভরাট হয়ে পানি ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল শুকিয়ে পানি শূন্য হয়ে পড়ায় এখন গভীর নলকূপের পানিতে আগাম ইরি-বোরো ধান লাগানোর ধুম পড়েছে।

বর্তমানে রক্তদহ বিলের চারিপার্শ্বে পানি শূন্য হয়ে পড়ায় গভীর নলকূপের সেচ সুবিধার মাধ্যমে করজবাড়ী, দক্ষিণ গনিপুর বোদলাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা তাদের নিজ জমিতে আগাম ইরি-বোরো ধান লাগাতে শুরু করেছে। চলছে ইরি ধান লাগানোর ধুম।

সান্দিড়া গ্রামের নুর ইসলাম জানান, আগে রক্তদহ বিলে যেখানে মাছ পাওয়া যেত। এখন বিল শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানে ইরি বোরো ধানের চাষাবাদ করা হচ্ছে। মাঝখানে বিলের বটগাছের চারপাশে পানি শূন্যতার কারণে এলাকায় দেখা দিয়েছে দেশীয় মাছের তীব্র আকাল। বেকার হয়ে পড়েছে বিল এলাকার প্রায় ৪ হাজার মৎস্যজীবী। কোন কাজকর্ম ও ব্যবসা বাণিজ্য না থাকায় এই বিপুল সংখ্যক মৎস্যজীবী পরিবারের এখন চরম দুর্দিন যাচ্ছে।

প্রায় ৯শত একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রক্তদহ বিলে একসময় পানি পরিপূর্ণ হয়ে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এ বিল থেকে সংগৃহীত দেশীয় মাছ এলাকার চাহিদা পূরণ করে বগুড়া, নাটোর, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে মাছের চাহিদা মেটাতো। এ বিলের বোয়াল, চিতল, আইর, গজার, পবদা টেংরাসহ দেশীয় মাছের সুখ্যাতি আজও ছড়িয়ে রয়েছে।

রানীণগরের বোদলা গ্রামের কৃষক শরিফুল রহমান জানান, রক্তদহ বিলপারে ২০/২৫ গ্রামের মৎস্যজীবী মানুষরা বিল থেকে মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে তারা সারাবছর বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাতো। কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে মৎস্যজীবিদের সেই সুখ স্বাচ্ছন্দ্য। এখন বিলে নাব্যতা সংকটের কারণে আর পানি সংরক্ষণ হয়না, তাই মাছ ও পাওয়া যায়না।

এ বিলের আগের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য এলাকার অভিজ্ঞমহলসহ কর্মহীন মস্যজীবিদের দাবি খুব দ্রত এ ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল খননের মাধ্যমে এর নব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আদমদীঘি,বগুড়া
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close