নওগাঁ প্রতিনিধি

  ২৭ নভেম্বর, ২০২১

ব্যক্তিমালিকানা জমি ‘খাস’ বানিয়ে লিজ দেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পৈসাঁওতা মৌজায় পৈতিক সূত্রে পাওয়া ব্যক্তিমালিকানা জমি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের জোগসাজসে খাস দেখিয়ে জোরপূর্বক লিজ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে ওই পুকুরের উপর আদালত থেকে একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) শহরের একটি হোটেলে জমির মালিক নজরুল ইসলামের ছেলে দিনমজুর কুমেদ আলী এই অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার দাদা মৃত-মজিবর প্রাং আত্রাই থানাধীন পৈসাঁওতা মৌজার ৩৪৮ এসএ খতিয়ানের ৯০৮ নম্বর দাগে ২.৬৩ একর কাতে ২.৫৪একর পুকুর জমিদার যতীন্দ্র চন্দ্র গং এর কাছ থেকে প্রজা পত্তন গ্রহণ করে।

পরবর্তিতে মজিবরের ছেলে নজরুল ইসলাম তা পৈতিক সূত্রে ভোগদখল করে আসে। বর্তমানে নজরুল ইসলামের ছেলে কুমেদ আলী তা পুনরায় পৈতিক সূত্রে পেয়ে ভোগদখল করে আসছে। ওই একই মৌজায় ১০৮৮দাগে ধানী জমি খাস রয়েছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের কতিপয় ব্যক্তি বিগত সময়েও ১০৮০দাগের সেই ব্যক্তি মালিকানা পুকুরটিও অনিয়মের মাধ্যমে খাস করার চেষ্টায় দখল করতে গেলে কুমেদ আলী বাধার সৃষ্টি করলে পুকুরটি রক্ষা পায়।

কিন্তু গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে একই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমসহ আরো কতিপয় ব্যক্তিরা ১০৮৮দাগের ধানী জমি সরকারি ভাবে লিজ গ্রহণ করার পর থেকে তারাও ১০৮০দাগের পুকুরটি খাস বানিয়ে তা দখল করার চেষ্টা করে আসছে।

সরকারের জমি সংক্রান্ত সকল কাগজে ১০৮০দাগটি লিখা থাকলেও ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্তাদের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলম সেটাকে ১০৮৮দাগ বানিয়ে বিভিন্ন স্থানে কাগজ দাখিল করলে গত বছরের মার্চ মাসের ৩তারিখে কুমেদের বাবা নজরুল বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালত সেই পুকুরটির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

কিন্তু ইউনিয়ন ভূমি অফিস জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আতাত করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাকে বানচাল করার জন্য আদালতকে বিভিন্ন সময়ে ভুল তথ্যাদি প্রদান করায় চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছেন দিনমজুর কুমেদ আলী। এছাড়াও পুকুরে লক্ষাধিক টাকার মাছ চাষ করেও কুমেদ আলী সেই মাছ তুলতে না পারার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কুমেদ আলী আরো বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুষ্ঠ সমাধান পাইনি।

লিজ গ্রহণকারী জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, আমি সরকারের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়েছি। ওই পুকুর খাস কিনা আমি তা জানি না। সেই বিষয়টি সরকারই ভালো জানেন। কিন্তু পরবর্তিতে আদালত থেকে ওই পুকুরের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর থেকে আমি আর ওই পুকুরে যাই না।

বিশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি তহশিলদার মেহেদী হাসান মুঠোফোনে জানান, খাস পুকুর বিষয়ে আমার কোন কিছুই জানা নেই। সরকারের জমি সংক্রান্ত সকল কাগজে ১০৮০দাগটি লিখা থাকলেও ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে সেটাকে ১০৮৮দাগ বানিয়ে বিভিন্ন স্থানে কাগজ দাখিল করার বিষয়টিও সঠিক নয়। এর বেশি কিছু বলতে চাইনা বলে ফোন কেটে দেয়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ব্যক্তিমালিকানা,নওগাঁ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close