শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

  ২৫ নভেম্বর, ২০২১

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরবাসীর মাঝে ভীতি তৈরি হয়েছে : স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী 

সংবাদ সম্মেলনে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বর্তমান মেয়র মহসিন মিয়া।

নৌকা মার্কার প্রার্থীর অব্যাহত আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে পৌরবাসীর মাঝে ভীতি তৈরি হয়েছে। প্রতিপক্ষের সমর্থকরা শত শত মটরসাইকেল নিয়ে আমার বাসার সামনে মহড়া দিয়ে, পটকা ফাটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। প্রকাশ্য মিছিল করে আমার পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার শ্লোগান দিচ্ছে। এতে করে ভোটারদের মনে ভীতির সৃষ্টি করছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বর্তমান মেয়র মহসিন মিয়া এসব কথা বলেন।

আগামী ২৮ নভেম্বর সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন এমন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি তনি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র মহসিন বলেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে শ্রীমঙ্গলে নির্বাচনী পরিবেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে। আমার প্রতিদ্বন্ধী নৌকা প্রতীকের কর্মী সমর্থকরা একের পর এক নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন।

গত ২২ নভেম্বর নৌকার সমর্থনে প্রায় ২০০ মোটর সাইকেল নিয়ে প্রতিপক্ষের কর্মী সমর্থকরা আমার বাসার সামনে মহড়া দিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এসময় তিনি অভিযোগ করেন, নৌকার কর্মী সমর্থকরা আমার বাসার সামনে ডাকবাংলো রেস্টহাউস চত্ত্বরে উচ্চস্বরে মাইকে মিউজিক এবং মাইকে আমার বিরুদ্ধে অশালীন গালিগালাজ করছে।

সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র ফটোকপি করতে গেলে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক নৌকা প্রতীকের কর্মী পরিচয়ে নোমান, আকবর হোসেন শাহীন, তানভীরসহ ১০/১২ জন ছাত্রলীগ কর্মী আমার দুই কর্মীকে গুহ রোডের নৌকার নির্বাচনী অফিসে ধরে নিয়ে মারধর করে। ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক টাকা বিতরণ করার মিথ্যা স্বীকারোক্তি নিয়ে ফেসবুকে প্রচার করে। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। এরপর ছাত্রলীগ কর্মীরা কোর্ট রোডে আমার সমর্থক অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জাহাঙ্গির হোসেন এর বাসায় হামলা করে।

তিনি আরো অভিযোগ বলেন, আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান নৌকার সমর্থনে প্রচারণায় অংশ নিয়ে কিভাবে ‘ভোট কেন্দ্র দখলে নিতে কর্মী সমর্থকদের প্রকাশ্য নির্দেশ’ দিচ্ছেন। এসব বিষয়ে থানা পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার পাচ্ছি না।

অন্যদিকে, আমার সমর্থক শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে মিছিল করলে তাদের জরিমানা করা হয়। আমার ছেলের ব্যক্তিগত কারে স্টীকার লাগানোর কারণে জরিমানা করা হয়েছে। এসব বিষয়ে আমি পাঁচ দফা জেলা নির্বাচন অফিসারকে লিখিত এবং পুলিশ সুপার, উপজেলা প্রশাসন ও শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশকে মৌখিক অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার,নির্বাচন,ভীতি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close