বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি

  ২২ নভেম্বর, ২০২১

বোরহানউদ্দিনে জমে উঠেছে পিঠা ব্যবসা

ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

পিঠা মানেই নবান্নের উৎসব। কবিগুরুর ভাষায়, ‘অগ্রহায়ণে তোর ভরা ক্ষেতে কি দেখেছি মধুর হাসি।’ নতুন ধান মানেই নতুন চাল। চাল মানে অন্ন। নতুন ধানের উৎসব বলে এর নাম নবান্ন। এই নবান্ন উৎসব বাঙালির চিরাচরিত এক অনবদ্য, হৃদয়গ্রাহ্য উৎসব। যা বাঙলার ঘরে ঘরে নতুন প্রাণ, নতুন খুশি ও আনন্দের জোয়ার বয়ে দেয়।

শীত এলেই গ্রামের প্রতিটি ঘরে পিঠাপুলির উৎসব শুরু হয়। তাই বলা চলে, পিঠার ঋতু শীতকাল। বাংলার অকৃত্রিম খাবারের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিশাল অংশজুড়ে রয়েছে পিঠা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি প্রায় বিলীন। দুধের স্বাদ ঘোলে মিঠানোর মতোই হাটে-বাজারে মানুষ আসে পিঠার স্বাদ নিতে। তাই এখন হাটে-বাজারে শীতের শুরুতে পিঠা বিক্রেতাদের দেখা মেলে।

কথা হয় বোরহানউদ্দিনের পৌর এলাকার হাওলাদার মার্কেটের মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ী মো. হাসেমের (৫২) সাথে। তিনি বলেন, এবারও পিঠা বিক্রিতে নেমেছেন। হাওলাদার মার্কেট ফুটপাতেই দোকান বসিয়েছেন। প্রায় চার বছর হলো তিনি শীত মৌসুমে পিঠার ব্যবসা করে আসছেন। বছরের অন্য সময় ফল বিক্রি করে সংসার চালান। শীত মৌসুমে প্রতিদিন ৩৫০০ টাকা থেকে ৩৮০০ টাকা বিক্রি হয়ে থাকে।

সরেজমিনে রবিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বোরহানউদ্দিন বাজারের পোস্ট অফিস, খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পিঠা বিক্রির এমন চিত্রই দেখা গেছে।

এমন একটা সময়ে আমরা অবস্থান করছি, যখন বাংলার শহুরে জীবনের প্রভাব বেশ দৃশ্যমান। গ্রামীণ সংস্কৃতির অনেক কিছুই ভুলতে বসেছে আমাদের গ্রাম-বাংলা। শীত মৌসুমে পিঠা তৈরির সংস্কৃতি ও চর্চা আর আগের মতো নেই।

মো. সুমন মিয়া একজন হোটেল ব্যবসায়ী। তিনিও শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করে সংসার চালান। তিনি প্রতিদিন ১৮০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পিঠা বিক্রি করেন।

প্রতিবেদককে পিঠা কিনতে আসা মো. রহমাতুল্লাহ ও আশিকুর রহমান বলেন, বাসা-বাড়িতে এখন আগের মতো আর পিঠা তৈরির দৃশ্য দেখা যায় না। তাই বাজার থেকে কিনে নিয়ে যাই।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
পিঠা ব্যবসা,বোরহানউদ্দিন,গ্রামীণ সংস্কৃতি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close