রূপগঞ্জ (নারায়নগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ১৪ অক্টোবর, ২০২১

রূপগঞ্জে বৃত্তির টাকা পেতে ভোগান্তি

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা তহবিলের দেওয়া মেধাতালিকায় থাকা সাধারণ বৃত্তি কিংবা দরিদ্রদের উপবৃত্তি র টাকা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রূপগঞ্জের শতাধিক শিক্ষার্থী। এর আগে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কমিশনভোগীদের দুর্নীতি রূখতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করেন। ফলে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে মোবাইলে দেওয়া হচ্ছে বৃত্তি উপবৃত্তির টাকা। কিন্তু নানা জটিলতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত রয়েছেন টাকা থেকে। এদিকে বৃত্তিপ্রাপ্ত আর উপবৃত্তি প্রাপ্তদের মোট সংখ্যা এমনকি হয়রানির শিকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগও গ্রহণ করছেন না উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ৩৯টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫টি রয়েছে নন এমপিও। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৩২ হাজার শ’ ৪৪ জন। আবার বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলায় মাধ্যমিক শাখার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটিতে যুক্ত রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি দ্বাদশ শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ফলে এখানে হাজার ২  শ’ ৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। একই উপজেলায় পূ্র্ণাঙ্গ কলেজ রয়েছে ৪টি। প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজার ৬  শ’ ৮ জন  শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

সরকারী বিধি মোতাবেক, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করতে ওইসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ হারে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার প্রদেয় শিক্ষা সহায়তা তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে উপবৃত্তি। ছাড়াও বিশেষ দুর্যোগকালীন প্রদেয় অনুদানও দেওয়া হয়েছে ওই তহবিল থেকে। সম্প্রতি শিক্ষকদের মাঝে করোনাকালীন দেওয়া হাজার টাকার অনুদানও দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বৃত্তি উপবৃত্তির টাকা তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌছাঁয়নি সঠিকভাবে। এক শ্রেণির শিক্ষক প্রতিষ্ঠান প্রধানদের একটি সিন্ডিকেট কমিশন কেটে রেখে নামে মাত্র সহায়তা দিয়েছেন। এমন নানা অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার সহায়তা পৌঁছাতে নেয় বিশেষ ব্যবস্থা। সে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের মোবাইল নাম্বারে ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে টাকা। টাকা  ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে সরকার। তবে শিক্ষার্থীদের সেই টাকা পেতেও নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

কারণ হিসেবে জানা যায়, মোবাইল নাম্বারের রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক একাউন্টে অমিল, ফরম ফিলাপে ত্রুটি, সার্ভার সেবায় ত্রুটি থাকায় এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের পাঁচাইখা মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক গিয়াসউদ্দিন জানান, তার মাদ্রাসার ২১জন  শিক্ষার্থী উপবৃত্তির তালিকায় রয়েছে। ওই শিক্ষার্থীদের টাকা পেতে নিয়ম মেনে অনলাইনের নির্ধারিত সার্ভারে আবেদন করি। কিন্তু আবেদনের ৩০দিন  পর কেবল ১ জনের টাকা পাওয়া যায়। বাকি ২০ জনের কোন হদিস পাইনি। এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা মাদ্রাসা বোর্ড অনলাইন শাখায় যোগাযোগ করতে বলেন। এভাবে অনলাইন সেবায় আমরা সরকারি সুবিধা থেকৈ বঞ্চিত হচ্ছি।

উপজেলার ৭০ নং মাহমুদাবাদ সরকারি স্কুল থেকে নাফিউল আলম নামের এক শিক্ষার্থী ২০১৮ সালে বৃত্তি প্রাপ্ত হন। সে বর্তমানে উপজেলার আব্দুল হক ভূঁইয়া স্কুলে অধ্যয়নরত। কিন্তু এতো বছর পার হলেও কেবল বার সে টাকা তুলেছে। বাকি টাকা তুলতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দৌড়ঝাঁপ করছেন তার অভিভাবকরা।

একইভাবে তারাবো পৌরসভার হাজী এখলাছউদ্দিন ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রূপগঞ্জের জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, দাউদপুরের বেলদী মাদ্রাসা, নুরুন্নেছা স্কুল এন্ড কলেজসহ প্রায় প্রতিটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত  শিক্ষার্থীরা শিকার হয়েছেন এমন ভোগান্তির। এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দাবী, অনলাইন পদ্ধতিতে তড়িৎ সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও সাধারণ ত্রুটি কিংবা অজ্ঞতার কারণে এমন বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে উপজেলা পর্যায় জরুরি কোন সেবার ব্যবস্থা থাকলে হয়রানি দূর হতো মনে করেন তারা।

উপজেলার প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর করিম মাস্টার বলেন, শিক্ষার্থী অভিভাবকরা নিজেরাই এসব পাওয়া নিয়ে অনলাইনে আলাপ আলোচনা করে থাকেন। তাছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন বা আইটি শিক্ষক নিয়োগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সার্ভারে বুঝেন না ঠিক মতো। ফলে শিক্ষার্থীদের সহায়তার সুযোগ নেই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ভুলতা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ . আব্দুল আউয়াল মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, উপজেলার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই এমন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারা ফরম ফিলাপের সময় সঠিক তথ্য দিতে ভুল করে। এমন নানা ভুলের কারণে তাদের টাকা আটকে থাকে। তবে ওই টাকা পরবর্তীতে কোথায় যায় তা আমরা জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ের কেউ জানতে পারি না। এটা ঊর্ধ্বতন মহলের বিষয়।

রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, সরকারি শিক্ষা সহায়তা পেতে উপজেলা মাধ্যমিক শাখার তালিকা প্রদান ছাড়া আর কোন কাজ নেই। তবে অনেকেই টাকা না পেয়ে আমাদের ফোনে কিংবা সরাসরি মৌখিকভাবে প্রতিকার চাচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সার্ভার এইচএসপি বিডি ডট কম বা হারামোনাইজড স্টাইপেন্ড প্রোগ্রাম নিয়মিত আপডেট থাকায় প্রতিষ্ঠানের আইটি শিক্ষকরাও বুঝে ওঠতে পারে না। ফলে সার্ভার না বুঝে অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সহায়তা করতে পারছেন না।

এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেই ওই উপজেলা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা সহায়তাভোগীদের মোট সংখ্যা। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে তথ্য থাকলেও জানেনা উপজেলা শিক্ষা অফিস। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে দক্ষতার অভাবে তথ্য পূরনে গড়মিল থাকলে হয়রানি হওয়াই স্বাভাবিক। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ আমাকে মোট উপবৃত্তি বৃত্তি প্রাপ্তদের তালিকা না দেওয়ায় মোট সংখ্যা আমার জানা নেই। পরবর্তীতে বিষয়ে সব তথ্য দিতে চিঠি দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এর আগেও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিলো। তারপরও কেন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় ব্যর্থ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বৃত্তির টাকা,রূপগঞ্জ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close