শরীয়তপুর প্রতিনিধি

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

বায়োমেট্রিক হাজিরা ক্রয়ের নামে

জাজিরায় ভূয়া ভাউচারে ২০ লাখ টাকা লোপাট

ফাইল ছবি

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরা ক্রয়ের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরের স্লিপের বরাদ্দ থেকে ভূয়া বিল ভাউচারের মধ্যমে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। উপজেলা শিক্ষা অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন না কিনেই ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যেমে এ টাকা হাতিয়ে নেন তারা।

সম্প্রতি জাজিরা উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।  

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে স্লিপের বরাদ্দ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা নিশ্চিতের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন কেনার নিদের্শ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়।

এ নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা ওই অর্থ বছরের স্লিপের বরাদ্দ থেকে হাজিরা মেশিন কিনে ভাউচার উপস্থাপন করে। স্লিপ বরাদ্দের কেনা কাটার সাথে উপজেলা শিক্ষা অফিস সরাসরি জড়িত থাকে না। স্ব স্ব বিদ্যালয় নিজেরাই স্লিপের মালামল ক্রয় করে থাকে এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্লিপের ক্রয় সংক্রান্ত আলাদা আলাদা কমিটি রয়েছে। 

ওই সময়ের দায়িত্বে থাকা একাধিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও কয়েকজন শিক্ষক জানায়, বিদ্যালয়গুলোতে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন ক্রয় করার কথা ছিল কিন্তু কোন মেশিন কিনবে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বায়োমেট্রিক মেশিন কেনা হয়নি। বায়োমেট্রিক মেশিন না কিনে কিভাবে ভাউচার জমা হলো এবং তা পাশ করানো হয়েছে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি ওই কর্মকর্তারা। 

জাজিরা উপজেলার অন্তত ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে কোথাও ডিজিটাল হাজিরা মেশিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষকরা ডিজিটাল মেশিন ক্রয় করে বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এ তথ্যই জানেন না। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের পরেও তিনটি অর্থ বছর পেরিয়ে গেছে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনা হয়নি। এমনকি বরাদ্দ ফেরতও দেওয়া হয়নি। অনেক প্রধান শিক্ষক স্কুল থেকে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে গেছে। কোন কোন প্রধান শিক্ষক অবসরে চলে গেছে। বিষয়টি যে কারো কাছে অবশ্যই আত্মসাতের সামিল বলে মনে হবে।

অভিযোগ করে তারা আরও বলেন, স্লিপের মালামাল ক্রয়ের জন্য ক্রয় কমিটি থাকলেও তাদের কে কোন কাজে লাগানো হয়না। প্রধান শিক্ষকগণ উপজেলার কর্মকর্তাদের যোগসাজসে স্লিপের টাকা খরচ করে থাকেন। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষকদের এ বিষয়ে কিছুই জানান না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা দিখা দিয়েছে।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাষ্টার ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় না করেই ভূয়া ভাউচার তৈরি করে বিদ্যালয়গুলো টাকা উত্তোলন করেছে স্বীকার করে বলেন, কোন ধরণের বায়োয়োট্রিক মেশিন কিনবে এ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার করণে আর মেশিন কিনতে পারেনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। তবে মেশিন কেনার টাকা তৎকালীন শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা রয়েছে বলে দাবি করেন। তবে টাকাটা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার  নির্দেশ এসেছে,আমরা টাকা জমা দিয়ে দিব ।

ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর স্লিপের বরাদ্দের কেনা কাটায় স্বচ্ছতা প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। মালামাল না কিনে কিভাবে ভাউচার উপস্থাপন করা হয় এবং শিক্ষা অফিসাররা কোন স্বার্থে এসব ভাউচার পাশ করেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তোলছেন অনেকেই। এসব ভূয়া ভাউচার উপস্থাপন করে সরকারি টাকা লোপাটের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান মিয়া বলেন, ঘটনাটি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের। আমি এ উপজেলাতে যোগদান করেছি ২০২০ সনের অক্টোবর মাসে। বিষয়টি আমার জানা ছিলনা।  বায়োয়োট্রিক মেশিনের টাকাটা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার  নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। ভূয়া বিল ভাউচার দিয়ে কিভাবে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহক করবো।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
শরীয়তপুর,বায়োমেট্রিক হাজিরা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close