তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

  ১১ অক্টোবর, ২০২১

তাহিরপুর মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়ম, তদন্তে দুদক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর হিফযুল উলুম আলীম মাদরাসা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ছয়টিটি শুন্য পদে নিয়োগবিধি উপেক্ষা করে নিয়োগ বোর্ড নিজে উপস্থিত থেকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি পদে নিজের স্ত্রী, ভাই, ভগ্নীপতি, ভাতিজাসহ নিকটাত্মীয়দের চাকুরির জন্য মনোনীত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে বিষয়টির তদন্তে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মকর্তারা। 
জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য বাচ্চু মিয়া গত ২৯ নভেম্বর ২০২০ তারিখে সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে স্পেশাল পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৬/২০২০। মামলায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহিবুর রহমান, তাজিমুল ইসলাম দুলাল, মিজানুর রহমান ও আলী আহমদ খান নামের ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২০(১) ধারা মোতাবেক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়,সিলেট এর বরাবর প্রেরণের আদেশ দেন। দুদক প্রধান কার্যালয় হয়ে মামলার নথিপত্র দুদক সিলেট অফিসে এসেছে। ইতিমধ্যে বিষয়টির তদন্তে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে ৪জন প্রার্থী গত বছরের ৪ নভেম্বর তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ও ১৪ই নভেম্বর মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য বাচ্চু মিয়া সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। মাদ্রাসার শূন্যপদে আবেদনকারী প্রার্থীরা এই নিয়োগ বানিজ্যের প্রতিকার চেয়ে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নিকট আরেকটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে যার স্মারক নং ১১,১৩২ তারিখ ৪ নভেম্বর ২০২০।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের সহকারী পরিচালক মোঃ ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন,আদালত মামলাটি তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির সন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।।
অভিযুক্ত মাদরাসার সভাপতি ও মামলার প্রধান আসামি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটা প্রায় ৬ মাস আগের। একপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা হলে তদন্ত তো হবেই। নিয়োগপ্রাপ্তরা নিয়োগের পরের মাস থেকে নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন,সভাপতি ও মামলার প্রধান আসামি আমিনুল ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিয়ম লঙ্গন করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের প্রমান পাওয়া যাবে। এই অনিয়মের বিচার হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে যুদ্ধাপরাধের মামলা রয়েছে। তাহিরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সুজাফর আলী ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট তাহিরপুরের আমলগ্রহণকারী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। পরে মামলার নথিপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয় বলে জানা গেছে।  

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
তাহিরপুর মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়ম, তদন্তে দুদক
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close