মেহেদি জামান লিজন, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)

  ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ ত্রিশালের জনজীবন

বেশ ক’দিন হলো বৃষ্টি নেই ময়মনসিংহের ত্রিশালে। এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে আশ্বিনের ভ্যাপসা গরম। এই গরমে কর্মমুখী মানুষ পড়েছে মহা বিপদে। এই তীব্র তাপদাহের মধ্যেই বাঁচার তাগিদে তাদের বেড়িয়ে পড়তে হচ্ছে মাঠে-ময়দানে কাজের সন্ধানে। তপ্ত রোধ ও ভ্যাপসা গরমে দুমোঠু খাবারের জন্য কর্মে নামতে হচ্ছে তাদের।

গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ত্রিশালের খেটে খাওয়া মানুষ। সুযোগ পেলেই একটু প্রশান্তির আশায় মানুষ ছুঁটছে গাছের ছায়া কিংবা শীতল কোনো স্থানে। গরমের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে শিশুরা পুকুর কিংবা শ্যালো মেশিনের পানিতে দিন পার করছে। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলায় বেড়েছে হাতপাখা বিক্রি। গরম সহ্য করতে না পেরে ছিন্নমূল মানুষকে ছায়াঢাকা গাছের নিচে খালি জায়গায় শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। তীব্র গরমে চাহিদা বেড়েছে পানি জাতীয় ফল ও সবজির।

ডাব, তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ও খিরাসহ পানি জাতীয় ফল ও সবজির দাম বাড়ছে হু-হু করে। এই তীব্র গরমে স্বাভাবিক কাজ করতে পারছেন না পণ্য ডেলিভারি ম্যান, রিকশা-ভ্যানচালক থেকে শুরু করে দিন মজুররা। খোলা আকাশের নিচে তাদের কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে।

অপরদিকে কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরমে জ্বর, ঠাণ্ডা, পানিশূন্যতা ও ডায়রিয়াসহ গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। শনিবার ময়মনসিংহে তাপমাত্রা বিরাজ করছে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

গত দুই দিন এ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। ভ্যাপসা গরম সহ্য না করতে পেরে ছোট ও বড়রা নামছেন পুকুরের পানিতে।

পৌর শহরের রিকসা চালক হরুন অর রশীদ জানান, এই রোদ ও গরমে রিকসা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। তাই মাঝে মাঝে রিকসা নিয়ে গাছের ছায়ার নিচে বসে থাকি। গরমের কারণে শরিলে শক্তি পাইনা। সংসার চালাতে হবে তাই বসেও থাকতে পারি না!

ফুটপাতের খোলা দোকানদার কাজল মিয়া বলেন, মামা যে গরম পড়ছে দেহোইন্না গায়ের জামা কাপড় খুইলাহালছি। এই কয়েকদিনের গরমে অবস্থা খুব খারাপ। তার ওপর বেচাকেনা অনেক কম। মানুষ এই গরমে বাসা থেকে কেমনে বের অইবো?

ভ্যান চালক বাবুল বলেন, আজকে যে রোদ পড়ছে সকাল থেকে রিকশা চালাইয়া এখন আর কুলাইতেছে না শরীর। পেটের দায়ে ভ্যানে মালামাল টানি। দিন আইনা দিনে খাইতে হয়। কাম তো করাই লাগব।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় তাপমাত্রা কম থাকলেও ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে গরম বেশি অনুভূত হয়। তাই অস্বস্তি বেড়ে যায়। এসময় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ওঠানামা করে।

অন্যদিকে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলেও বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম থাকায় মানুষের শরীর থেকে ঘাম কম বের হয়।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
ত্রিশাল,ময়মনসিংহ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close