লালমনিরহাট প্রতিনিধি

  ৩১ জুলাই, ২০২১

ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা না করলেও পাওয়া যায় রিপোর্ট

লারমনিরহাট জেলা সীমান্ত অধ্যুষিত এলাকায় প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের বসবাস। অবহেলিত বিশাল এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগ মানুষের পেশা কৃষি কাজ। এখানে নেই কোন ভাল মানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জেলার অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে বাহারি নামে ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

এর মধ্যে অন্যতম লালমনিরহাট জেলার প্রাণ কেন্দ্র মিশনমোড়ে অবস্থিত ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সেন্টার। বাহারি নামে বাহারি বিজ্ঞাপনে অসু্স্থ্য মানুষকে আকৃষ্ট করতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণায় একধাপ এগিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটির জুড়ি মেলা ভার। এখানে পরীক্ষা না করেও যে কোন পরীক্ষার পাওয়া যাচ্ছে রিপোর্ট।

কিন্তু বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরের চিত্র ভিন্ন।

নেই কোন ভাল মানের টেকনিশিয়ান। এমনকি ভালো মানের মেশিনও নেই। ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি চলার জন্য মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সদর হাসপাতালের ডাক্তারদের ডিউটি ফাঁকি দিয়ে সেখানে নিয়ে এসে বসিয়ে রাখেন।

কয়েকজন ডাক্তারের সমন্বয়ে গড়ে উঠা ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সেন্টারটি সকাল থেকে রাত অবধি চলে রোগী দেখার কাজ।

শনিবার বিকেলে ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সেন্টারে হাজিগঞ্জ এলাকার আশরাফুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি তার ৮ বছরের শিশু সন্তান রাফিকে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডা. হুমায়ুন কবির আহম্মেদের কাছে নিয়ে আসেন। ডা. হুমায়ুন কবির রাফিকে দেখে কিছু টেস্ট দেন। তার মধ্যে এক্সরে করাতেও বলেন। সবগুলো রিপোর্ট করতে নেয়া হয় রক্তের স্যাম্পল। কিছুক্ষণ পর আশরাফুল ইসলামকে ডেকে ধরিয়ে দেয়া হয় রিপোর্টের কাগজ। সাথে ছিল এক্সরে রিপোর্ট।

কিন্তু তখন পর্যন্ত শিশু রাফির এক্সরে করানো হয়নি, অথচ হাতে ধরিয়ে দেয়া হলো এক্সরে রিপোর্ট। শিশু রাফির বাবা আশরাফুল ইসলাম রিপোর্টগুলো নিয়ে ডা. হুমায়ুন আহম্মেদের কাছে প্রেসক্রিপশন করাতে গেলে ডা. বলেন, এটা কার এক্সরে আমিতো নাকের এক্সরে করাতে বলেছি। তখন ডা. হুমায়ুন আহম্মেদ শিশু রাফিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন বাবু তোমার কি এক্সরে করানো হয়েছে। তখন রাফি বলে আমিতো এখানে বসে ছিলাম আমার শুধু রক্ত নিয়েছে। কোন এক্সরে করায়নি।

পরে রাফির বাবা ক্রিসেন্ট ডায়াগানস্টিক ও ইমেজিং সেন্টারের পরিচালক মাজেদের কাছে অনিয়মের কথা বলতে গেলে তিনি গালিগালাজ করেন ও চেয়ার তুলে মারতে যান এবং বলেন, বিষয়টি যেন কেউ জানতে না পারে।

আশরাফুল ইসলাম বলেন, রিপোর্টের ব্যাপারে ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সেন্টারের মালিক মাজেদুল ইসলাম মাজেদের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি রেগে গিয়ে তাকে চেয়ার তুলে মারতে যান এবং বলেন আমি যে রিপোর্ট দিয়েছি সেটাই সঠিক। যদি ডা. সাহেব না বুঝতো তাহলে আমার ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেত। আমি ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সেন্টারের মালিক মাজেদুল ইসলাম মাজেদের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে ক্রিসেন্ট ডায়াগনস্টিক ও ইমেজিং সেন্টারের পরিচালক মাজেদুল ইসলাম মাজেদ বলেন, ভাই ভুলে রিপোর্টটা তাকে দিয়ে ফেলেছি এজন্য ক্ষমা প্রার্থী। আর চেয়ার তুলে মারতে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায় বলেন, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পিডিএসও/ জিজাক

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
লালমনিরহাট,ডায়াগনস্টিক,এক্সরে,চিকিৎসা
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close