মোঃ রফিকুল ইসলাম, শিবচর( মাদারীপুর)

  ৩১ জুলাই, ২০২১

ভ্যান-পিকআপে বাংলাবাজার ঘাটে আসছে যাত্রীরা

কঠোর বিধিনিষেধের নবম দিনে কোনওরকম স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে ভ্যান ও পিকআপে চড়ে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে আসতে দেখা গেছে জনসাধারণকে। পাশাপাশি, ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী নিয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাবাজার ঘাটের উদ্দেশে আসতে দেখা গেছে ভ্যান, ট্রাক-পিকআপগুলোকে। রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণায় বিশেষ করে শ্রমিকরা কর্মস্থলে ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে কোনো করোনা আতঙ্ক বা স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রসঙ্গই আসছে না তাদের।

শনিবার সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাবাজার ঘাটে আসতে শুরু করে ঢাকামুখী যাত্রীরা। অনেকই বরিশাল থেকে ভ্যানে করে ঘাটে আসছেন। তাদের মধ্যে অনেক যাত্রী জানালেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর শুনতে পান, রোববার থেকে তাদের কর্মস্থলে কাজ চলবে। তাই শনিবার ভোরে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তারা।

এদিকে, বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌরুটে বাংলাবাজার ঘাটে ফেরিতে যাত্রী ও পারাপার থামছে না। কঠোর বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো আজও রাজধানী ঢাকায় ফিরছেন দক্ষিণাঞ্চলের লাখো কর্মজীবী মানুষ। তারা বরিশাল, গোপালগঞ্জ, খুলনা থেকে ভ্যান, পিকআপ, অটোবাইকে চড়ে তিনগুন ভাড়া দিয়েও ঘাটে আসছেন।

এদিকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট এলাকার আশেপাশে কয়েকটি সড়কে দেখা যায় অনেক যাত্রী ঢাকার উদ্দেশে বাংলাবাজার ঘাটে আসছেন। হাইওয়ের ও এক্সপ্রেস ওয়েতে পুলিশ ও মোবাইল কোর্টকে ফাঁকি দিয়ে তার শিবচরের কাদিরপুর, কুতুবপুর, পাচ্চরের ও জাজিরার নাওডোবা এলাকার ছোট ছোট রাস্তা ব্যবহার করে ঘাটে এসে পার হচ্ছেন। 

এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের ৯ম দিনে বাংলাবাজার ঘাটে কর্মজীবিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকে এই নৌরুটে ১০ টি ফেরি চলাচল করলেও ঘাট এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়ছে। 

যাত্রীদের চাপে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে হিমসিম খাচ্ছে বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বাংলাবাজার ঘাটে আগের মতোই কঠোর অবস্থানে নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ঘাট এলাকা ৩ কিলোমিটার দূরে শিবচরের কুতুবপুর এলাকায়  দেখা গেছে, বরিশাল থেকে ভ্যানে চড়ে ঘাটে যাচ্ছেন শ্রমিকরা। জানতে চাইলে মনির হোসেন নামে একজন জানান, কি করবো? আমরা গরিব মানুষ, ভ্যানে চড়েই আমাদের আসতে হয়। তারপরেও ১০০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। সরকার এই লকডাউনটা বাদ দিয়ে কারখানা খোলার ঘোষণা দিতে পারতো।

এসময় পিক-আপের এক যাত্রী মাসুম হোসেন বলেন, আমরা পোশাক কারখানায় চাকরি করি। সরকার একদিকে লকডাউন রেখেছে।আরেক দিকে গার্মেন্টস খুলে দিছে। আর আমার এভাবে তিনগুণ ভাড়া দিয়ে যাচ্ছি। তবে শুনলাম ফেরিতে যে ভিড় তাতে কাল সকালে গাজিপুর পৌঁছাতে পারবো কিনা বলতে পারছিনা?

এসময় এক ট্রাক চালকের (জসীম) সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা জনপ্রতি ১৫০০ টাকা করে ভাড়া নিয়ে  খুলনা থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত এসছেন। তবে পথে কোন বাধা বা প্রশাসনের কোন বাধা ছিলোনা বলে জানান তিনি।

তবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘাটে  দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) জামাল উদ্দিন বলেন, যেহেতু কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তাই যেভাবে পারছে মানুষ কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে তারা যতটুকু সম্ভব কঠোর হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ঘাট ম্যানেজার মো. সালাউদ্দিন বলেন, নৌরুটে সকাল থেকে ১০টি ফেরি চলছে। পন্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের ভিড়ে জরুরি যানবাহন পারাপারে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়ও তিনি জানান, ঘাটে যাত্রীদের চাপ ঠেকাতে তিনি মাদারীপুর জেলা ও পুলিশ বিভাগের সহায়তা চেয়েছেন।
 

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
মাদারীপুর,ঘাট
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close