সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

  ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

বিধবা হেলেনার শেষ চাওয়া একটি বসতঘর

৬৫ বছর বয়সি বিধবা হেলেনা খাতুন। সঙ্গে দুই নাতনি। ছবি : প্রতিদিনের সংবাদ

নেই কোন সরকারি ভাতা বই। একমাত্র বসত ঘরে টিনের উপর পলিথিনের ছাউনী দিয়ে রাখা হয়েছে। বৃদ্ধার একমাত্র ছেলে সন্তান দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকনে। প্রথম স্ত্রী অভিমান করে দুই সন্তানকে দাদির কাছে রেখে ঢাকায় রয়েছেন। এখন বৃদ্ধা পেটের তাগিদে ভিক্ষা করেন। তার ভিক্ষার আয়ে তিন জনের পেটের খাবার চলে। একটি স্থায়ী বসত ঘর পেলে তিনি নিশ্চিতে বসবাস করতে পারবেন। শেষ সময়ে বৃদ্ধার চাওয়া একটি মাত্র বসতঘর। এতক্ষণ বলছিলাম সিরাগঞ্জের উল্লাপাড়ার ৬৫ বছর বয়সি বিধবা হেলেনা খাতুনের কথা।

বৃদ্ধা হেলেনার সাথে কথা বলে জানা গেছে, উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের মহিষাকোলা গ্রামে বসবাস করেন। প্রায় ১৫ বছর আগে হেলেনা খাতুনের স্বামী গণি মোল্লা মারা গেছেন। অভাবি পরিবারের হেলেনা খাতুনের সহায় সম্বল বলতে সাড়ে তিন শত বসতভিটা রয়েছে। একমাত্র ছেলে সন্তান মো. হিরন মিয়া, প্রায় ৪ বছর আগে প্রথম স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের অমতে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় থেকে রিক্সা চালানোসহ দিনমজুরী কাজ করে জীবনযাপন করছেন। 

------এদিকে প্রথম স্ত্রী অভিমানে নিজের এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানকে তাদের দাদির কাছে রেখে সেও বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। প্রায় ৮ বছর বয়সী মেয়ে সন্তান মিম দাদির বাড়ীতে থেকে ৩য় শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে আর ছেলে সন্তান সোহেল রানার বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। সেও দাদির কাছে থাকে।

অসহায় বৃদ্ধা হেলেনা খাতুন পেটের তাগিদে ভিক্ষা করেন। তার ভিক্ষার আয়ে তিন জনের পেটের খাবার চলে। অসহায় পরিবারের হেলেনা খাতুন সরকারি বিধবা ভাতা পায় না। এছাড়া ১০ টাকা কেজি দরে চাউলের কার্ডও নাই। একটি দোচালা টিনের বসত ঘর থাকলেও তাও অতি পুরানো। চালের টিন নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরটিতে বসবাসে টিনের উপর পলিথিনের ছাউনী দিয়ে রাখা হয়েছে যেন বৃষ্টি পানি না পড়ে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জি. মাহবুবুর রহমান ভুইয়া বলেন, সরেজমিনে দেখে তার জন্য একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে0

 

পিডিএসও/জাহিদ

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বিধবা হেলেনা,বসতঘর,সিরাগঞ্জ
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close