নাঙ্গলকোটে পোকা খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

কাজ হচ্ছে না কীটনাশকেও

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১৭:২১

মো. দুলাল মিয়া, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা)

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আমন ধানের মাঠ জুড়ে দেখা দিয়েছে টুংরো ও খোল পাচসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ। এ উপজেলায় আমন ও বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। আর এ দুটি মৌসুমকে টার্গেট করে হাজার হাজার টাকা খরচ করেন কৃষকরা। ধানও ফলান নিজের মন মতন করে। প্রতি ৬ শতকে ধান ফলান ৪-৫ মন করে। 

কিন্তু এবার ঘটেছে উল্টো। আমন মৌসুমে শুরুতে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়াই সময় মতন চারা রোপণ করতে পারেন নি। তারপরও অনেক স্বপ্ন নিয়ে রোপণ করছেন বোরো ধান। আর ওই ধান যখন গা ঝাঁকা দিয়ে রুপ নিচ্ছেন সবুজের। দেখলে মন ভোরে যায়। শান্তি আসে এ দেহে। ঠিক তখনি দেখা মিলেছে টুংরো ও খোল পাচ সহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের। এ যেন সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ। ফসল রক্ষায় বেশ কয়েক বার কীটনাশক দিয়েও তেমন উপকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন কৃষকেরা। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে গেলো সকল আশা-বরশা। মনে হয় পোকায় খায় কৃষকের স্বপ্ন! বর্তমানে সবমিলিয়ে দিশেহারা কৃষক।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাংগড্ডা ইউপির বাংগড্ডা উত্তর পাড়া, রায়কোট উত্তর ইউপির মাহিনী ও দক্ষিণ ইউপির মন্তলী, তুলাতলি, মৌকরা ইউপির মৌকরা, গোমকোট, নান্দেশ্বর, ঢালুয়া ইউপির ঢালুয়া, শিহর, মন্নারা, বক্সগঞ্জ ইউপি, দক্ষিণ আলিয়ারা, মদনপুর, দৌলখাঁড় ইউপির দৌলখাঁড়, বটতলী ইউপির বটতলী, কাশীপুর, জোড্ডা পূর্ব ইউপির জোড্ডা, হাসানপুর, হেসাখাল ইউপির হেসাখাল, পাটোয়ার, মক্রবপুর ইউপির মক্রবপুর, টুয়া, পেরিয়া ইউপির মাধবপুর, শাখতলি ও পৌর সদরের গোত্রশাল, বাতুপাড়া গ্রামের মাঠ জুড়ে রয়েছে চির সবুজের আমন ধান।এ সব মাঠের প্রায় জমিনগুলোতে মাঝে মাঝে দখা যায় হলুদের খন্ড চিত্র। যেন হলুদের সমারোহ।

প্রথমে একটি চারা হলুদ হয়। সপ্তাহের মধ্যে পুরো জনিনের প্রায় ধান হলুদ হয়ে যায়। আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পড়ে আক্রান্ত ধানের চারাগুলো। এসব চারা ছিরলে অনেক দূর গন্ধ ভের হয়। আবার কিছু কিছু চারার পাতায় কান্ডে ছিদ্র করে পোকা ডিম পাড়ে। এতে বেশ কয়েক বার কীটনাশক স্প্রে করার ফলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। টাকাই খরচ হয় লাভের লাভ কিছুই দেখেন না তারা।  

এ বিষয়ে গোমকোট ডিপজল মার্কেট এলাকার কৃষক আব্দুল হক জানান, তিনি ৩০ শতক জাগয়া আমন ধান করেছেন। চারা রোপণের পর বেশ ভালোই উঠছিলো ধানের চারা হঠাৎ দেখা যায় সব ধান হলুদ হয়ে গেছে। বেশ কয়েক বার কীটনাশক স্প্রে করার পর কোন কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে।  

নান্দেশ্বর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ মৌসুমে তিনি ৬০ শতক জায়গায় আমন ধানের চারা রোপণ করছেন। এতে প্রায় তার ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে তার পুরো জমিন হলুদ হয়ে ধান গাছগুলো মরে যাচ্ছে। কৃষি অফিস সহ বিভিন্ন কীটনাশক দোকান থেকে পরামর্শ নিয়ে ৪-৫ বার কীটনাশক ব্যবহার করি। কোন লাভ হয়নি। এ আমন ফসল নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিলো। এখন তা শেষ হওয়ার পথে। আর কৃষি অফিসের লোকজন বলে দর্য্য দরেন ঠিক হয়ে যাবে। 

এ বিষয়ে মৌকরা ইউপির উপসহকারী কৃষি অফিসার আমিনুল হক বলেন, এ রোগ দেখা দেয়ার আগে ও এখন পর্যন্ত প্রতিটি বাজারে পাড়ায় মহল্লায় কৃষকদের মাঝে সচেতন মূকল লিফলেট বিতরণ করি। এসব রোগ হলে কি কি কীটনাশক ব্যবহার করবেন তার জন্য পরামর্শ দিতেছি।

এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় ১২ হাজার ২ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। আর টুংরো ও খোল পচা সহ বিভিন্ন রোগের জন্য প্রতিটি বাজারে লিফলেট গণসচেতনতা বৃদ্ধি করছি। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। এসব রোগ দেখা দিলে কোন কোন কীটনাশক ব্যবহার করবেন। তার কয়দিন পর ভিটামিন জাতীর ঔষধ ব্যবহার করবে তাও জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। একটু সময় লাগবে এ রোগ সরতে। 

পিডিএসও/এসএম শামীম