কুমিল্লায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আইন যুুগোপযোগী করতে কমিশন গঠন

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:৫২ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার জনপ্রতিনিধিসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যমান আইনগুলোর মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকায় সবগুলো আইনের সমন্বয় করতে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।

শনিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার জনপ্রতিনিধি, সরকারি-কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা জানান। 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আইনকে সমন্বয় ও সংশোধনের মাধ্যমে নতুন আঙ্গিকে প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও জনকল্যাণমুখী করতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করাই এই কমিশনের লক্ষ্য। 

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, দেশকে সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করতে শুধু রাজধানী কিংবা বিভাগীয় শহর নয়, জেলা-উপজেলা পর্যায়েও উন্নয়নের মাস্টার প্ল্যান হচ্ছে। রুপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে যে পথ-নকশা প্রণয়ন করেছেন, তা বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

কুমিল্লা শহরে সুপেয় পানি সরবরাহ করতে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে সরকার। কুমিল্লা জেলায়ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এ সময় কুমিল্লা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিনন্দন শহরে রুপান্তরিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শহরের সব সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 'আমার গ্রাম, আমার শহর' ধারণা প্রবর্তন করেছেন জানিয়ে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা, শিক্ষাসহ আধুনিক সুবিধা পাওয়ার জন্য শহরে আসতে হবে না। গ্রামের মানুষ সহজেই হাতের নাগালে সব সুযোগ-সুবিধা পাবে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।

এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কুমিল্লা ক্লাব প্রাঙ্গণে ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধার কৃতি সন্তানদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কাউকে ডেকে এনে বেতার-টেলিভিশনে ঘোষণা দেওয়ালেই স্বাধীনতার ঘোষক বলা যায় না। 

মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সোনার মানুষ উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সবচেয়ে বড় ভ‚মিকা পালন করতে পারেন এই মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা।