চট্টগ্রামে হত্যার পর ‘গণপিটুনি’ বলে চালানোর চেষ্টা

প্রকাশ | ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৩২

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রতীকী ছবি

নগরীর বাকলিয়া থানাধীন নতুন ফিসারিঘাট এলাকায় শ্রমিকদের মাঝি মো. আবু তৈয়বকে ছুরিকাঘাতে ও পিটিয়ে খুনের পর গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে বলে প্রচার করে বাঁচার চেষ্টা করেছিল কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন এলাকায় সরকারি খাসজমিতে গড়ে ওঠা বিশাল বস্তির একটি কলোনির মালিক দাবিদার আকতার হোসেন (৪১)। যিনি স্থানীয়ভাবে ‘কসাই আকতার’ নামে পরিচিত। গ্রেফতারের পর আকতার নিজেকে স্থানীয় বকশিরহাট ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান। এ ঘটনায় রাতেই আকতারসহ সাত জনকে গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেফতার ৭ জন হলেন- আক্তার হোসেন প্রকাশ কসাই আক্তার, মো. সাইফুদ্দীন, মো. রায়হান উদ্দিন প্রকাশ রানা, আশরাফুল ইসলাম, মো. সবুজ, মো. আবু তাহের প্রকাশ কালু ও হাসিনা। উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান জানান,

পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবু তৈয়বকে। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আকতারসহ মোট ৯ জন এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল আমরা তথ্য পেয়েছি। এর মধ্যে সাতজনকে আমরা গ্রেফতার করতে পেরেছি। পরিকল্পিত হত্যার পর আকতারসহ আসামিরা এই ঘটনাকে গণপিটুনি বলে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে পুলিশকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেতার করতে সক্ষম হয়েছি।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েকজনের তথ্য আমরা পেয়েছি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আসামিদের আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে নতুন ফিসারিঘাট এলাকায় খুন হন মো আবু তৈয়ব। তিনি কর্ণফুলী থানাধীন শিকলবাহা মাস্টারহাট এলাকার আহমদ মিয়ার ছেলে। নতুন ফিসারিঘাটে শ্রমিকের মাঝি হিসেবে কাজ করতেন আবু তৈয়ব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) পলাশ কান্তি নাথ, সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) মুহাম্মদ রাইসুল ইসলাম, বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিনসহ প্রমুখ।

পিডিএসও/এসএম শামীম