সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা

কোটি টাকা আয় হলেও অবহেলিত মীরগঞ্জ হাট

প্রকাশ | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:৫২

এম এ মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

বাৎসরিক প্রায় কোটি টাকা আয় হলেও অবহেলিত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী মীরগঞ্জ হাট। বর্তমানে এ হাটের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার ব্যবসায়ীসহ জনসাধারণ।

পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী মীরগঞ্জ হাটের বাৎসরিক আয় প্রায় কোটি টাকা। আয়ের উল্লেখযোগ্য উৎস বা খাতগুলো হচ্ছে—গরু হাটি, ছাগল-ভেড়া হাটি, পাট হাটি, শাক-সবজি-ফার্নিচার হাটি, হাঁস-মুরগি হাটি, হাট ছাড়া প্রতিদিনের বাজার ও স্থায়ী রড, সিমেন্ট, ঢেউটিন, মালামাল, ওষুধসহ অন্যান্য ব্যবসাকেন্দ্র।

জানা গেছে, প্রতি বছর গরু হাটি থেকে প্রাপ্ত আয় ৪৮ লাখ, ছাগল-ভেড়া হাটি ১৮.২০ লাখ, শাক-সবজি-ফার্নিচার হাটি ১১ লাখ, পাট হাটি ৭.৫০ লাখ, বাইসাইকেল হাটি ২.২৫ লাখ, হাঁস-মুরড়ি হাটি ৬৫ হাজার, হাট চাড়া অন্যান্য বাজার দিন (বাৎসরিক) ১.৪০ লাখ টাকাসহ মোট ৮৮.৯০ লাখ টাকা। এছাড়াও রয়েছে রড, সিমেন্ট, ঢেউটিন, মালামাল, ওষুধসহ অন্যান্য ব্যবসাকেন্দ্র থেকে পৌরসভা কর্তৃক ধার্যকৃত কর থেকে প্রাপ্ত আয়।

বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এত টাকা আয় হওয়া সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী মীরগঞ্জ হাটটি আজ অবহেলিত। নেই কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া। অল্প বৃষ্টিতেই হাটের ভেতরে জমে যায় হাঁটু পানি। কাদাময় হয়ে পড়ে গোটা হাট। পানি আর কাদা সঙ্গী হওয়ায় প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা, এমন মন্তব্যও করছেন কেউ কেউ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মীরগঞ্জ হাটের ভেতরে বিভিন্ন ব্যবসার জন্য নির্মিত টিন সেড ঘরগুলোও বেহাল হয়ে পড়েছে। মরিচা ধরে খসে খসে পড়েছে শুটকি ও মাছ ব্যবসায়ীদের ঘর দুটি। গরু হাটি-সংলগ্ন দুটো সেড রয়েছে পরিত্যাক্ত অবস্থায়। কাঁচাবাজার, শুটকি, মাছ বাজারে দোকানিদের ভরসা এখন পলিথিন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পার্শ্ববর্তী পীরগাছা থানার ছোট ছোট হাট-বাজারের উন্নতি হলেও উপজেলার একমাত্র বড় এ হাটের কোনো উন্নতি নেই। এজন্য ক্রমান্বয়ে ক্রেতাশুন্য হয়ে পড়ছে এ হাট।

সুন্দরগঞ্জ দলিল লেখক সমিতির কোষাধ্যক্ষ  মনিন্দ্র নাথ কর্মকার অভিমান করে বলেন, একমাত্র গরু হাটি টিকিয়ে রেখেছে হাটটিকে। দিন দিন যেভাবে ক্রেতা শুন্য হয়ে পড়ছে, তাতে আগামী পাঁচ বছর পর হয়তোবা এ হাটের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে যোগ করেন তিনি।

পৌর মেয়র আবদুল্লাহ আল মামুন শোনালেন আশার বাণী। তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর কারও হাত নেই। এজন্য জলমগ্ন হয়ে পড়ে হাটের ভেতর। গরু হাটিকে উপযোগী করার জন্য ইটের রাবিশ ফেলেছি।

তিনি আরও বলেন, বাজেট এসেছে ভাঙা টিন সেডগুলো মেরামতের জন্য। শীঘ্রই এগুলো মেরামত করা হবে।

পিডিএসও/হেলাল