উল্লাপাড়ায় জমির ধান রক্ষায় কৃষকের উদ্যোগ

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:২৭ | আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৪৩

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাশাপাশি দু’টি মাঠের প্রায় ৮শ’ বিঘা জমির রোপা আমন ধান বন্যার পানির ক্ষতি থেকে রক্ষায় কৃষকেরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন। গত তিনদিন ধরে ছয়টি সেচ মেশিন চালিয়ে মাঠ দু’টি থেকে বন্যার পানি বের করে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় আর যেন বন্যার পানি নতুন করে মাঠ দু’টিতে ঢুকতে না পারে সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

শনিবার বেলা এগারোটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রাম এলাকায় জলি বিল ও দক্ষিণ চড়ায় প্রায় ৮শ’ বিঘা জমিতে কৃষক রোপা আমন ধানের আবাদ করেছেন। এরমধ্যে দক্ষিণ চড়ায় প্রায় সাড়ে ৪শ’ বিঘা ও জলি বিলে প্রায় সাড়ে ৩শ’ বিঘা জমিতে এ ধানের আবাদ হয়েছে।

বন্যার পানি মাঠ দু’টি থেকে নেমে যাওয়ার পর গত তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে কৃষকেরা এ ধানের আবাদ শুরু করেন। বেশির ভাগ জমির ধান গুছি নিয়েছে। গত সপ্তাহ খানেক সময়ে ফের বন্যার পানি বাড়তে থাকায় মাঠ দু’টিতে বন্যার পানি ঢুকেছে। সেখানকার দু’টি সড়ক পথে ছোট আকারের দুটি কালভার্টের খোলা মুখ হয়ে মাঠ দু’টিতে বন্যার পানি ঢুকতে থাকে। নতুন করে আশা বন্যার পানিতে মাঠ দু’টির বেশির ভাগ জমির রোপা আমন ধান বন্যার পানিতে তলিয়েছে। 

বন্যার পানি বেড়েছে শনিবারও। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকেরা কালভার্ট দু’টির মুখ মাটির বাধ দিয়ে অস্থায়ীভাবে আটকে দিয়েছেন যেন বন্যার পানি ঢুকতে না পারে। জলি বিলে ৪টি ও দক্ষিণ চড়ায় ২টি সেচ মেশিন চালিয়ে মাঠ দু’টি থেকে পানি বের করে দেওয়া হচ্ছে। 

কৃষকেরা জানান, তাদের ধান ফসল রক্ষায় মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে এ কাজটি করছেন। গত তিনদিন হলো সেচ মেশিনগুলো চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক জমির ধান ফসল জেগে উঠেছে। মাঠ দু’টিতে আবাদকারী কৃষকেরা সেচ মেশিনগুলো জ্বালানী তেলের খরচ মেটাচ্ছেন। কৃষকেরা জানান, মাঠ দু’টি থেকে বন্যার পানি পুরোপুরিভাবে সেচ মেশিন চালিয়ে বের করে দেওয়া হবে। এতে আরো ক’দিন সময় লাগবে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন, কৃষকদের এমন উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগের সফলতায় কৃষকেরা লাভবান হবেন। এ উদ্যোগে জড়িত কৃষকদেরকে সামনের কৃষি প্রণোদনায় সহায়তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেবেন।

পিডিএসও/এসএম শামীম