৬ দেশ থেকে আসছে ৩৯ হাজার টন পেঁয়াজ

অতিরিক্ত না কেনার আহ্বান চেম্বার সভাপতির

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:২৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ভারত পেয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর বিকল্প দেশ থেকে পেয়াজ আমদানি করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম থেকে এ পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৯১৩ টন পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য অনুমোদন (পারমিট) নিয়েছেন দেশের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। মিয়ানমার, চীন, মিশর, পাকিস্তাান, তুরস্ক ও নেদারল্যান্ডস থেকে এসব পেঁয়াজ আমদানি হবে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে চট্টগ্রামে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর থেকে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণে গিয়ে ঠেকেছে। একই অবস্থা খুচরা বাজারেও। চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের (প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টিন স্টেশন) উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল জানান, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমদানিকারকরা গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে আইপি নেওয়া শুরু করেন।

বিপরীতে ৬টি দেশ থেকে ৩৯ হাজার ৯১৩ টন পেঁয়াজ আনার অনুমতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে চীন থেকে আসবে ৮ হাজার ৭৮০ টন, মিয়ানমার থেকে ৯ হাজার ৫০২ টন, পাকিস্তান থেকে ৯ হাজার ১৭৯ টন, মিশর থেকে ১০ হাজার ৩৫৩ টন, তুরস্ক থেকে ১ হাজার ৮০০ টন এবং নেদারল্যান্ডস থেকে ৮০০ টন পেঁয়াজ আসবে।

এদিকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা জানা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। চকবাজারে খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। 

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, পেঁয়াজের বেচাবিক্রি বেড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আড়তদারদের কাছে পেঁয়াজ মজুদ আছে। ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় গত বছরের মতো পেঁয়াজের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবেলায় ব্যবসায়ীরা আগের মতো বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন। কিন্তু এসব পেঁয়াজ দেশের বাজারে আসতে ন্যূনতম ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় লাগবে।

এদিকে গত কয়েকদিনে হঠাৎ করে দেশের বাজারে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি জানান, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত না হয়ে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও কৃত্রিম সংকটরোধে  প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ না কেনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি টিসিবির মজুদকৃত পেঁয়াজ আরো বেশি আউটলেটের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

পিডিএসও/এসএম শামীম