অসহায় শতাধিক পরিবারের পাশে বিচারক আতিকুস সামাদ

প্রকাশ | ০৯ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৪৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের নাজুক পরিস্থিতিতে কর্মহীন পরিবারে খাদ্য সমগ্রী পৌঁছে দিতে এবার নতুনমাত্রা যোগ হল। সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন এক বিচারক। কর্মজীবনে থাকা অবস্থায় যারা সবসময়ই থাকেন জনমানুষের অন্তরালে। এমন গণ্ডিতে থাকা অবস্থাতেও সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন বিচারক ড. মো. আতিকুস সামাদ। পর্দার আড়ালে থেকেও করোনাভাইরাসের নাজুক পরিস্থিতিতে কর্মহীন অনাহারে থাকা শতাধিক পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলু, সাবানসহ বিভিন্ন ধরণের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। তার নিজ গ্রাম সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মাছখোলা এলাকায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। 

বিষয়টি প্রকাশ হলে স্থানীয়রা জানান, বিচারক মো. আতিকুস সামাদ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সংকটতম পরিস্থিতি ছাড়াও পবিত্র ঈদের সময় পর্দার আড়ালে থেকে এভাবেই অসহায় মানুষের সাহায্য করেন। 

মাছখোলা গ্রামের বাসিন্দা হাফেজ মো. মনিরুল ইসলাম জানান, জজ সাহেবের যেখানেই পোষ্টিং থাকুক না কেন, বিভিন্ন দূর্যোগের সময় জজসাহেব গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। এছাড়াও বিভিন্ন সময় আমাদের এলাকার দরিদ্র মানুষের কষ্টের কথা জজ সাহেবকে বললেই তিনি সাহায্যের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন। বর্তমানে তিনি খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। 

গ্রামের অপর বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ভাইরাসের কারণে অনেক দিন ধরে কাজে যেতে পারছিনা। বাড়ির বাচ্চা-কাচ্চা বেশিরভাগ সময়ই না খেয়ে থাকছে। বিষয়টি জজ সহেব জানতে পেরে আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি না আসলেও এভাবে প্রায় সময়ই অসহায়দেরকে সহায্য সহযোগিতা করে থাকেন। এভাবে সকল বিত্তবানরা গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ালে কেউ অভুক্ত থাকবেনা। 

নাম প্রকাশ না করার সর্তে রাজশাহী মহানগরীর ডিঙ্গাডেবা এলাকার এক বাসিন্ধা বলেন, বিচারক ড. মো. আতিকুস সামাদ রাজশাহীতে সফলভাবে কর্মযজ্ঞ চালিয়ে গেছেন, তার মাধ্যমে লিগ্যাল এইড পাওয়া রাজশাহী এলাকার শত শত অসহায় পরিবার আজও সুন্দরভাবে বসবাস করছেন। পর্দার আড়ালে থেকে এমনভাবে আর অন্যকোনও বিচারক কাজ করে কি আমার জানা নাই।  

সার্বিক বিষয়ে বিচারক ড. মো. আতিকুস সামাদের সাথে মুঠোফোনে সংযোগ করা হলে তিনি প্রতিদিনের সংবাদকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুসারে কর্মস্থল ছেড়ে কোথাও-ই সেভাবে যেতে পারিনা। তাই এলাকার সমস্যাকবলিত স্থানীয় গণ্যমান্যদের সহায়তায় আমার ও আমার স্ত্রীর সম্পূর্র্ণ ব্যক্তিগত টাকা থেকে অসহায়দের সেবা করার চেষ্টা করি মাত্র। যার ধারাবাহিকতায় এই সংকটতম সময় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করার ব্যবস্থা করেছি।’ 

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমনে প্রায় সারাদেশ লকডাউন হওয়ায় অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এতে অনাহারে দিনযাপন করছে অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষ। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা অনুসারে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের বাড়িতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন ত্রানসামগ্রী পৌঁছে দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে গ্রামে পল্লী এলাকার মানুষ বেশি অসহায় জীবন যাপন করছে। ব্যাক্তি পর্যায় এগিয়ে না আসলে এ সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব নয়। তাই সামর্থ্যবান ব্যাক্তিবর্গকেও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান বিচারক ড. মো. আতিকুস সামাদ। 

জানা গেছে, বিচারক ড. মো. আতিকুস সামাদ পেশাগত জীবনেও সফলভাবে বিচার কাজ পরিচালনার পাশাপাশি ২০১৮ সালে দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থার উপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।