reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৭ মে, ২০২২

পৃথিবীর বিপজ্জনক যে পাঁচ নদীতে জলকেলি করে না মানুষ!

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর শানায় টিমপিশকা নদী। যাকে ‘ফুটন্ত নদী’ বলা হয়। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে মোট কতটি নদী আছে তা নিয়ে রয়েছে মতভেদ বা বিতর্ক। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০১১ সালের গবেষণায় বলা হয়েছে দেশে নদ-নদীর সংখ্যা ৪০৫। আবার শিশু একাডেমি প্রকাশিত শিশু বিশ্বকোষে বলা হয়েছে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা ৭০০ এর অধিক।

তবে নদীর সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাংলাদেশকে কিন্তু নদীমাতৃক দেশ বলা হয়। দেশের এমন কোনো জেলা-উপজেলা নেই যেখানে নদ-নদী নেই। নদীতে পাল তোলা নৌকা, জেলেদের মাছ ধরা, মাছ খেকো পাখির ঝাঁকে ঝাঁকে উড়া, পানিতে ভাসা এবং ডুব দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য প্রতিটি প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে মোহনীয়। এছাড়া দলবেঁধে দুষ্টু ছেলের নদীতে জলকেলির দৃশ্যও কম উপভোগ্য নয়। নদীমাতৃক দেশের মানুষ হিসেবে আমরা সবাই নদীতে নাইতে (গোসলে) নামার লোভ সংবরণ করতে পারি না। কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এমন কিছু নদী রয়েছে যেখানে জলকেলি করতে নামলেই বিপদ। প্রাণ নিয়ে ফিরে আসা অসম্ভব প্রায়। আসুন জেনেই নিই সেসব বিপজ্জনক পাঁচটি নদীর নাম।

হোয়ারফে, ইংল্যান্ড

এ যেন এক প্রাকৃতিক ফাঁদ! দেখতে যতটা সুন্দর, ততটাই বিপজ্জনক এই নদী। শোনা যায়, ইয়র্কশায়ারের কাছে এই নদীতে কেউ পড়ে গেলে নাকি আর ফিরে আসেন না! কেন, তা আজও এক রহস্য। কারও কারও মতে এই নদীগর্ভে রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গেই নাকি তলিয়ে যায় মানুষ।

শানায়-টিমপিশকা, পেরু

পেরুর এই নদী পৃথিবীর একমাত্র ‘ফুটন্ত নদী’ হিসেবে পরিচিত। সাড়ে ছ’কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর জল এত উষ্ণ যে, কোনও মানুষ এই জলে পড়ে গেলে তার পক্ষে বেঁচে ফেরা কার্যত অসম্ভব। নদীটির ন্যূনতম উষ্ণতা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোথাও কোথাও এই উষ্ণতা পৌঁছে যায় ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে! ফুটতে শুরু করে জল।

কঙ্গো, আফ্রিকা

কঙ্গো পৃথিবীর গভীরতম নদী। কোথাও কোথাও এই নদীর গভীরতা ৭০০ ফুটেরও বেশি। এই গভীরতার জন্য নদীটির তলদেশে আলো পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না। তাই নদীর তলায় ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে রহস্যের অন্ত নেই।

মিসিসিপি, উত্তর আমেরিকা

মিসিসিপি উত্তর আমেরিকার দীর্ঘতম নদী। আপাত-শান্ত এই নদীটিও প্রতি বছর বেশ কিছু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। মিসিসিপি নদী ‘বুল শার্ক’ ও ‘পাইক’ নামক এক প্রজাতির মাছের বাসস্থান। এই মাছগুলির আক্রমণে প্রতি বছর মারা যান বহু মানুষ। পাশাপাশি, এই নদীতে রয়েছে অসংখ্য ঘূর্ণি, যা খালি চোখে ঠাহর করা কঠিন।

নীল নদ, আফ্রিকা

শুধু মিশর নয়, আফ্রিকার মোট ১১টি দেশের উপর দিয়ে বয়ে চলা নীল নদ আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জীবনরেখা। এহেন নীল নদেও লুকিয়ে আছে বিপদ। নদ জুড়ে কুমিরের বাস। প্রতি বছর গড়ে ২০০ জন মানুষ মারা যান সেই কুমিরের আক্রমণে। নীল নদের জলে হদিশ মেলে বেশ কিছু মারণ জীবাণুরও। তাই এই নদীর বেশ কিছু অংশে স্নান করেন না স্থানীয় লোকজন।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
নদী,জলকেলি,বিপজ্জনক
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close