reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২০ জানুয়ারি, ২০২৩

শীতেও সবজি ও মাছের দাম চড়া

রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে সম্প্রতি ছবিটি তুলেছেন হানজালা শিহাব

শীত মৌসুমে সারাদেশে সবজির উৎপাদন বাড়ে। একই সময় গ্রামীণ জলাশয়গুলোর পানি কমে যাওয়ায় মাছ শিকার বেশি হয়। ফলে এ সময় সবজি ও মাছের সরবরাহ বেশি থাকায় সাধারণত দাম ক্রেতাদের নাগালেই থাকে। কিন্তু বর্তমান চিত্র ভিন্ন। শীতের এ সময়ও রাজধানীর কাঁচাবাজারে মাছ ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজির দাম চড়া। এ জন্য ব্যবসায়ীরা শীত আর বিশ্ব ইজতেমাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। তবে ভোক্তাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ছুটির দিন সকালে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বাজারে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেন। কিন্তু মাছ আর শীতের সবজির দাম বাড়তি দেখে অবাক তিনি। কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গে আনোয়ার বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের সবজির দামও বাড়তি। যেকোনো সবজিতে কেজি প্রতি আগের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা গুনতে হচ্ছে।

ওই বাজারের মাছ বিক্রেতাদের ভাষ্য, মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের দামও বেড়ে গেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত শীতের কারণে মাছ সরবরাহ কম হচ্ছে। ফলে মাছের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে একটু বেশি।

শীতের দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা আরও বলছেন, গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত শীতের কারণে ফসল তুলতে পারছেন না কৃষকরা। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। গত সপ্তাহে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের কারণে টঙ্গীতে প্রচুর পরিমাণে সবজির চাহিদা ছিল। তখন সবজির দাম বেড়ে আর কমেনি। আগামী ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় ইজতেমার সময় পর্যন্ত সবজির দাম চড়া থাকতে পারে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে শীত কিছুটা কমে এলে বাড়বে সবজির সরবরাহ। তখন কমতে পারে সবজির দাম।

শুধু শেওড়াপাড়া নয়, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। সব ধরনের মাছের দাম তুলনামূলক বেড়েছে। তবে গরু, খাসি, মুরগি, ব্রয়লার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীতে শুক্রবার কাতল মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, পাবদা ৪৫০ টাকা, মলা ৩৬০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ২৬০ টাকা, বোয়াল ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ছোটগুলো ৫০০ আর বড় ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ এবং গলদা চিংড়ি ৭০০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে শীত আর ইজতেমার অজুহাতে বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বাজারে প্রতি পিস ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহেও ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। একইভাবে বাঁধাকপিও প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ব্রুকলি প্রতি পিস ৫০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা। গাঁজর প্রতি কেজি ৪০ টাকা, সিম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ টাকা। ঝিঙা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, শালগম প্রতি কেজি ৩০, খিরা প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ফুলকা প্রতি আটি ১৫-২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মৌসুম না হওয়ায় বরবটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকায় আর পটল প্রতি কেজি ১২০ টাকা, নতুন আলু প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ও মাছের দাম বাড়লেও গরুর গোস্ত আগের দামেই ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে খাসির মাংস ৯০০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়, লেয়ার মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় এবং ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার মহাখালীর বাজারে সপ্তাহের বাজার করতে আসা ফয়সাল হাসান বলেন, গত সপ্তাহের চেয়ে সবজির দাম খুব বেড়েছে, শীতকালীন সব ধরনের সবজির দাম অন্য সময় কম থাকলেও আজ দেখছি অনেক বেশি। সেই সঙ্গে মাছের দামও আগের চেয়ে বেড়েছে। আজকের বাজারে সব দোকান থেকেই সবজি আর মাছের দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে।তুলনামূলক কম দাম হওয়ার কারণে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ বাজারে সবচেয়ে বেশি কিনে পাঙাশ, চাষের কই, তেলাপিয়া আর রুই মাছ। কিন্তু আজকের বাজারে এসব মাছের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেতারা আজ বাজারে এসে এত দাম বৃদ্ধি দেখে অস্বস্তিতে পড়েছেন।

একই বাজারের মাছ বিক্রেতা রুবেল মিয়া বলেন, গ্রামাঞ্চলে শীতের কারণে মাছ তুলতে পারছেন না চাষিরা। এছাড়া কুয়াশাসহ শীতের কারণে পরিবহন করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ কম, এ কারণেই মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে।

অন্যদিকে সব ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী বলেন, গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে কৃষকরা ফসল তুলতে পারছেন না। যে কারণে সরবরাহ কমেছে। তবে শীত কিছুটা কমলে আগের মতো প্রচুর সবজি সরবরাহ হবে। তখন দাম কিছুটা কমে আসবে। তিনি বলেন, প্রচুর পরিমাণে সবজি ইজতেমা ময়দানের দিকে চলে গিয়েছিল। যে কারণে ঢাকায় সবজি কম এসেছে। দাম বাড়ার পেছনে এ বিষয়টিও দায়ী। আগামী রোববার শেষ হচ্ছে ইজতেমা। তারপর থেকে সবজির দাম আরও কমে যাবে।

পিডিএস/এইচএস

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কাঁচাবাজার,রাজধানী,মাছ,সবজি
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়