নিজস্ব প্রতিবেদক

  ০৩ অক্টোবর, ২০২২

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৬% 

ফাইল ছবি

সরকারের নানামুখী চেষ্টায় আমদানি কিছুটা কমানো গেলেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। কিন্তু রপ্তানি আয়ের চেয়ে এ সময়ে ৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার বেশি খরচ হয়েছে আমদানিতে। ঘাটতির এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র।

এতে বিশ্ব পরিস্থিতিতে অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সূচকে শিগগিরই কোনো সুখবর মিলবে বলে আশা করছেন না বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নানামুখী উদ্যোগে আমদানি চাপ কিছুটা কমে এসেছে। কিন্তু রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি সে তুলনায় যথেষ্ট নয়। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার প্রভাবে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ হারের মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। সেখানকার মানুষ খরচ কমিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সেভাবে বাড়ছে না। ১৩ মাস পর তো অনেক কমে গেল। এ পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের পুরোটা সময় বাণিজ্য ঘাটতির এই ধারাবাহিতা দেখতে হবে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে গত অর্থবছরের শেষে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করার পাশপাশি ৩০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করে সরকার।

পাশাপাশি বিলাসী পণ্যের বিপরীতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত এলসি মার্জিন ও কিছু পণ্য আমদানিতে ঋণ সুবিধা বাতিল করা হয় সে সময়।

তাতে কিছুটা সুফল দেখা গেছে, নতুন এলসি খোলার পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। একইভাবে কমে এসেছে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণও। কিন্তু তারপরও বাণিজ্য ঘাটতির চিত্রে খুব বেশি হেরফের দেখা যাচ্ছে না।

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের এ ব্যবধান কমিয়ে আনতে অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রবাসী আয়ে ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও তা ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট না হওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও (বালেন্স অব পেমেন্ট) ঘাটতি বাড়ছে।

বাণিজ্য ঘাটতির চাপ সামলাতে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে প্রতিনিয়ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে একদিকে বিনিময় হারে ডলারের বিপরীতে সস্তা হচ্ছে স্থানীয় মুদ্রা টাকা। আর কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তা কমে ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
বাণিজ্য
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close