reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১০ জুলাই, ২০২৪

সাক্ষাৎকার

কুবি ট্রেজারার আসাদুজ্জামানের চার বছর?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালের ৫ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। তখন থেকে পরবর্তী চার বছর নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি, আলোচনা, সমালোচনার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশের ক্ষোভের শিকার হয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে। এবারের গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি গাড়ি নিয়ে বের হতে চাইলে শিক্ষক সমিতির বাধার মুখে প্রায় চার ঘণ্টা পথরুদ্ধ থাকার পর গাড়ি ছাড়াই চলে যেতে হয়। মেয়াদের শেষ সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি, তার উদ্যোগ, অভিযোগের উত্তরসহ নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। কুমিল্লা শিক্ষকদের পার্টটাইম রিউমুনারেশন বৃদ্ধি, মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতা প্রদান, গ্রেডভিত্তিক শিক্ষকদের ল্যান্ডফোন ভাতা, পরীক্ষা পারিতোষিক নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে বিশেষ বরাদ্দ এনে প্রদান, বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে আইন বিভাগের মুট কোর্ট স্থাপন, গত চার বছরে মাত্র ৪৭ কোটি টাকার বাজেট ৭১ কোটি টাকার অধিকে উন্নীতকরণ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মিডিয়া ল্যাব স্থাপন, প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে কনফারেন্স কক্ষ তৈরিতে অর্থ প্রদান, ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান মো. মীর নাসিরের কাছ থেকে নিজ উদ্যোগে ১৪-১৫ লাখ টাকার ১০০ জোড়া উন্নতমানের বেঞ্চ সংগ্রহ ও বিভিন্ন বিভাগে প্রদানসহ নানা উদ্যোগের কথা জানান এই সাক্ষাৎকারে। এ ছাড়া চার বছরে তার নানা কর্মকাণ্ড নিয়েও কথা হয়। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রকি উল হাসান

বর্তমান উপাচার্য আসার পর থেকে আপনাকে (ট্রেজারার) গবেষণার বিষয়ে জোর দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় কোন অবস্থা থেকে কোথায় এসেছে তা এই চার বছর হিসাব করলে সহজেই বোঝা যায়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণায় একটি স্ট্যান্ডার্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধু রিপোর্ট বাইন্ডিংয়ে বিশ হাজার টাকা, কিংবা বিদেশে ভ্রমণ করেও গবেষণায় ব্যয় দেখানো, নামে মাত্র রিপোর্ট দেওয়া, কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় করা- এসবই ছিল অতীতের প্র্যাকটিস। এসব অনিয়ম দূর করার লক্ষ্যে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণার ফরমেট এনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ও উপযুক্ত একটি নিয়ম ও নীতিমালা প্রতিষ্ঠা করেছি। ফলে বর্তমানে শিক্ষকরা সেই নিয়ম নীতিমালা অনুসরণ করে সুশৃঙ্খলভাবে গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুবির বাজেট বেড়েছে। এই বাজেট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আপনি কী বলবেন?

কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট একটি চলমান প্রক্রিয়া। কিন্তু বাজেট প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন সব সময় চ্যালেঞ্জের। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (বিমক) আমাদের যে অনুদান প্রদান করে থাকে, তা যথাযথভাবে সঠিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ উপায়ে ব্যবহার করলে এবং কাজের পরিধি উপস্থাপন করতে পারলে বিমক কর্তৃক অনুদান বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। আমি সেই সুযোগ নিয়েছিলাম। ২০২০-এর ৫ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকে। তীব্র করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও নিয়মিত অফিস করেছি। কিন্তু তৎকালীন উপাচার্য ইমরান কবির চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত সোলার বিদ্যুৎ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সাবেক রেজিস্ট্রার আবু তাহের ঢাকায় বসে সময় কাটিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবহেলিত ও পরিত্যক্ত প্রজেক্টের কাজ চলমানের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সঙ্গে অনেকবার সবাই মিলিত হই। অতঃপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তৎকালীন সচিবের সঙ্গে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে প্রজেক্টের অসুবিধাসমূহ এবং উত্তরণের পথ বলিষ্ঠভাবে ব্যাখ্যা করায় প্রায় ৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের মাধ্যমে প্রকল্পটি সুচারুরূপে সম্পন্ন করি।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন নীতিমালা সংশোধনের ব্যাপারে আপনার উদ্যোগ কী ছিল?

আমি দিনরাত পরিশ্রম করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন নীতিমালা সংশোধন করেছি। কারণ অতীতে স্বজনপ্রীতি করে রেজিস্ট্রার আবু তাহের তার প্রিয় লোকদের আপগ্রেডেশনের সুবিধা দেওয়ার জন্য খেয়াল-খুশিমতো নিয়ম তৈরি করেছিল। পরোক্ষভাবে সাবেক রেজিস্ট্রার আবু তাহেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলকাঠি নাড়াত।

আপনার এত অবদান ও কাজের কথা বলছেন; কিন্তু তার পরও আপনাকে নিয়ে শিক্ষকদের একটা অংশ সমালোচনা করে এটা কীভাবে দেখছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর সবারই জানা উচিত। সত্যিকার অর্থে ট্রেজারারের কাজ একটি থ্যাংকস লেস জব। আমার কাজই হলো অর্থ প্রদানের বিষয়ে আইন মেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আমি তো শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীকে খুশি করতে আসিনি। আমি এখানে দায়িত্ব নিয়ে এসেছি দেশের স্বার্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য। হয়তো অনেকের আবদার আমি রক্ষা করতে পারিনি, তাই তারা আমার প্রতি খুশি নন। যারা খুশি নন, তাদের প্রত্যেককে আমি জানি এবং বুঝি তারা কে বা কারা? এদের মধ্যে কেউ কেউ প্রশাসনিক অনুমতি ব্যতিরেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে শতাধিকবার ঢাকা-কুমিল্লা যাতায়াত করেছে, ফলে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আমি তা বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলাম। আবার কেউ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির অনুমতি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে। আমি সার্টিফিকেট নথিভুক্তি কমিটির প্রধান থাকাকালে কমপক্ষে ছয় মাস অতিক্রান্তের পর নথিভুক্তির সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু আগের উপাচার্য ওই শিক্ষকের সার্টিফিকেট নথিভুক্ত করার চাপ দেন। শুনেছি তিনি নাকি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত থাকা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ভর্তি ফর্মে তা উল্লেখ করেননি। কোনো কোনো শিক্ষক আপগ্রেডেশন সময়ের আগেই পদোন্নতি পেয়েছেন। কেউ কেউ শিক্ষা ছুটিতে থাকার পরও গবেষণার কাজ শেষ না করে নিজ বিভাগে যোগদানের চেষ্টা চালান। বিশ্ববিদ্যালয় একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে, তার ব্যত্যয় ঘটানো উপাচার্যের জন্য অসম্ভব। যেহেতু উপ-উপাচার্য ড. হুমায়ুন কবির নিয়মিতভাবে অফিস করেননি বিধায় উপাচার্য কখনো কখনো আমার কাছে এ ধরনের নথি পাঠিয়েছেন। আমি সম্পূর্ণ নিয়ম মোতাবেক মতামত প্রদান করেছি। মনে রাখতে হবে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন দ্বারা প্রাপ্ত ক্ষমতা এবং উপাচার্য কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে আমার কোনো বাধা নেই। সংগত কারণেই আমি সেসব নথিতে মতামত দিয়েছি। আমার মতামত কার পক্ষে যাবে কিংবা কার বিপক্ষে যাবে, সে চিন্তা করে আমি কখনো মতামত দেয়নি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির কিংবা সিজিপিএ মাত্র ৩.০ স্কোরের কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করিনি। যারা আমার সমালোচনা করছেন, অনেকেরই শিক্ষক হওয়ার ন্যূনতম যে যোগ্যতা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নির্ধারণ করেছে, তা নেই।

আপনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কর্তৃক মনোনীত সদস্য ছিলেন। আপনাকে কেন বাদ দেওয়া হলো?

দেখুন আমি পরপর দুই মেয়াদে ছয় বছর ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে কাজ করেছি। আমার আগেও অনেক শিক্ষক এই মেডিকেল কলেজে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পালাক্রমে আমার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য নতুন সদস্য মনোনয়ন দিয়েছেন। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি জানি এই মিথ্যা তথ্যটি কোনো সোর্সের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অতিরঞ্জিত করে ছড়ানো হয়েছে। একজন সম্প্রতি অনেক বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্থগিতাদেশ পান। তার সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভাইস চ্যান্সেলরের খুব মহরমণ্ডদহরম সম্পর্ক। অন্যজন অতীতে পিএসসিতে বিতর্কিত কাজ করেছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও একজন ব্যর্থ প্রশাসক ছিলেন, তিনি কোনো ফাইল পড়ে স্বাক্ষর করতেন না, অন্যদের কথা শুনে চলতেন। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, তার প্রমাণও রয়েছে। আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের একজন অধ্যাপক চলতি দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি বিএমডিসির রুলস অনুযায়ী কোনোভাবেই অধ্যাপক কিংবা অধ্যাপকের চলতি দায়িত্ব পেতে পারেন না, এমনকি সহযোগী অধ্যাপকও হতে পারেন না। আমি বিষয়টি জানতে পেরে তীব্র প্রতিবাদ করেছিলাম কিন্তু সংশ্লিষ্ট ডিন ও অধ্যক্ষ মিলে সেই শিক্ষককে অধ্যাপকের চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। এসব কারণে দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ভাগ্যক্রমে কিছু কিছু অযোগ্য ষড়যন্ত্রকারী আমার সমালোচনা করতে পারেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নানা সভা, আয়োজনে উপাচার্যকে নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং সেসব কাজের দোসর হিসেবে আপনাকে আখ্যায়িত করেছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?

এটি একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি জানি না সাধারণ সম্পাদক এখন পর্যন্ত মেহেদী হাসান কোন যোগ্যতা বলে, কীসের ভিত্তিতে, কোন অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করার পরে আমাকে নিয়ে মন্তব্য করতে পারেন। শুনেছি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকালটি থেকে লেখাপড়া সম্পন্ন করেছেন। ছাত্র অবস্থায় তিনি কোন শ্রেণিভুক্ত শিক্ষার্থী ছিলেন, সেটা নিয়ে আমার যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। এতটুকু জানতে পেরেছি, তিনি ফার্স্ট ইয়ারে লেখাপড়া বুঝতে না পারায় এক বছর পর দ্বিতীয়বার প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন। অতঃপর একটি সিমেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কিন্তু তিনি শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন কি না আমার জানা নেই। তবে আমি যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তার লেখাপড়ার সব যোগ্যতার সঠিক তথ্য আমি পেয়ে যাব আশা করি। শুধু উত্তেজনাকর কথা বলা, অন্যকে ছোট করা এবং মাঠে স্লোগান দেওয়া একজন শিক্ষকের কাজ নয়। তিনি আমার সঙ্গে আমার বিভাগে পড়ালেখা করলে বুঝতে পারতেন আমাকে নিয়ে মন্তব্য করাটা তার কতটুকু দুঃসাধ্য ব্যাপার ছিল। তিনি যেসব অভিযোগ করেছেন, সবগুলোই মিথ্যা, অসত্য ও বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও অমর্যাদাকর। তিনি যে মিথ্যাচার করছেন, তার জন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা করা উচিত। শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতা দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ছাড়া তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কিছুই দেননি। এটা প্রমাণিত। বিগত বছরগুলোয়ও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপাচার্যদের সঙ্গে তিনি দুর্ব্যবহার করেছেন। প্রায় পৌনে চার বছর পরে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে এসে বিভাগে যোগদানের পর গত পাঁচণ্ডছয় মাসে একটি ক্লাসও নেননি, সে তথ্য আমার কাছে রয়েছে। তিনি কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা ছুটির নীতিমালায় বাধা পড়ে এখন আর শিক্ষা ছুটিতে অস্ট্রেলিয়া যেতে পারছেন না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে নিজের ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের ডিগ্রি সম্পন্ন করে যথাসময়ে ফেরত না আসায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট তাকে ৮ সপ্তার সময় বেঁধে দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আট সপ্তাহের শেষ দিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যোগ দেন। যোগ দেওয়ার পরপরই কনভোকেশনের নাম দিয়ে আবার প্রায় তিন মাসের ছুটির জন্য আবেদন করেন। উপাচার্য মতামতের জন্য নথি আমার কাছে পাঠালে আমি বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের পরামর্শ দিই। এতেই তিনি আমার প্রতি প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। কারণ সিন্ডিকেটে উপস্থাপন না হলে তিনি রাজনৈতিক চাপ দিয়ে উপাচার্য থেকে তার শিক্ষা ছুটি ভাগিয়ে নিতে পারতেন বলে মনে করেন। অথচ সিন্ডিকেট সভা তার আবেদন বিবেচনা করে ১৫ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছিল, এরপরও তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে আর ছুটি বর্ধিত করার জন্য পুনরায় আবেদন করলে উপাচার্য নিজ ক্ষমতা বলে তাকে আরো কিছুদিন ছুটি ভোগ করার সুযোগ দেন। মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য সুবিধাজনক নিয়ম সৃষ্টি হতে পারে না, সবার জন্য যেসব নিয়মনীতি প্রযোজ্য, তার বেলায়ও সেটাই হবে- এটাই স্বাভাবিক।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা মনে পড়ে, যা নিতে গিয়ে সমালোচনার শিকার হয়েছেন কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্তের সুফল বিশ্ববিদ্যালয় ভোগ করেছে?

অবশ্যই আমার স্মৃতিতে একটি সিদ্ধান্তের কথা আছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় চলমান নতুন প্রজেক্টের প্রাথমিকভাবে লাঞ্চ লে আউট, বিল্ডিংয়ের ড্রয়িং ও ডিজাইনের কাজ চলছিল। তখন বেশ কয়েকটি আবাসিক হলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সাবেক উপাচার্য ইমরান কবির ছেলেমেয়েদের প্রত্যেকটি হলে একটি করে সুইমিং পুলের ব্যবস্থা রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। আমি যখন সুইমিং পুলের ব্যবস্থাপনা ও মেইনটেন্যান্সের খরচের বিষয়ে দৃষ্টিপাত করি, তখন তিনি আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিলেন। অথচ তখনকার প্রজেক্ট ডিরেক্টরসহ অন্য সদস্যারা আমার কথার যুক্তিকতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, ক্যাম্পাসে ছেলেদের ও মেয়েদের আলাদা সুইমিং পুল হতে পারে। প্রত্যেকটি হলের সুইমিং পুলের প্রয়োজন নেই।

অন্য আরেকটি ঘটনা, সাবেক উপাচার্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে এমন কোনো সভা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল কিংবা খাওয়া-দাওয়া করে ডিন ও চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করেননি। অথচ তিনি যখন ছুটিতে ইউএসএ গিয়েছিলেন, তখন আমি উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকাকালে একটি সভা আহ্বান করতে বাধ্য হই। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, সব দোষ শুধুই আমার, শিক্ষকদের ক্ষোভ, অশালীন কথা সবকিছুই আমাকে ইঙ্গিত করে। কিন্তু সব শিক্ষক জানতেন নিয়মিত উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে আমি সেই সভা করতে বাধ্য হয়েছিলাম। সেই সভা আমার জন্য একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করবেন উপাচার্য সেই পরিকল্পনার অংশীদারত্ব থাকবে ট্রেজারারেরও। বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিক স্বচ্ছতা ও উপযুক্ততার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের আইন ও নিয়মনীতি মেনে ব্যয় করাই হলো ট্রেজারারের কাজ। আমি যেভাবে গত চার-চারটি বছর দায়িত্ব পালন করেছি, সেভাবে সার্বিকভাবে মানোন্নয়ন হোক- সেটাই চাই। ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা অর্থ দপ্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখার প্রবণতা কমিয়েছি উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রজেক্ট চলছে, সেটি সুসম্পন্ন হলে অবকাঠামোর দিক থেকে চমৎকার উন্নতমানের ক্যাম্পাস পাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। সেটির যথাযথ যত্ন নেওয়া ও উপযুক্ত ব্যবহার করাই হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডারদের কাজ।

আগামীকাল সমাপ্য

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close