reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ০৮ জুলাই, ২০২৪

পার্থেনিয়াম নির্মূলে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি

প্রকৃতির সঙ্গে প্রাণিকুলের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। প্রাণীর অস্তিত্ব বজায় রাখতে গাছপালা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই স্থান-পরিক্রমায় জীবকুলের উপকারার্থে স্রষ্টা উদ্ভিদকুলকে বৈচিত্র্যময় করে সাজিয়েছেন। প্রকৃতির সবকিছুই যে প্রাণিকুলের জন্য কল্যাণকর, এমন নয়। প্রকৃতিতে বিরাজমান আছে অনেক ক্ষতিকর উদ্ভিদও। এ রকম একটি উদ্ভদ হলো পার্থেনিয়াম।

পার্থেনিয়াম মূলত আগাছা। এগুলো অবাঞ্ছিত, সমস্যা সৃষ্টিকারী বা অনিষ্টকারী উদ্ভিদ, যা বপন বা লাগানো ছাড়াই বিশেষ প্রাকৃতিক উপায়ে অতিমাত্রায় জন্মে নেয়। আগাছা সাধারণত প্রতিযোগী ও অদম্য স্বভাবের এবং অধিক বংশবিস্তারে সক্ষম। এদের জীবনচক্র স্বল্প মেয়াদের। পার্থেনিয়াম এমন একটি উদ্ভিদজাতীয় গাছ, যেটি যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে বাঁচতে সক্ষম। বিশেষ করে ফসলের খেত কিংবা রাস্তার দুই ধারে এ আগাছাটি বেশি জন্মে। বেঁচে থাকতে কোনো ধরনের যত্ন-আত্তির প্রয়োজন পড়ে না। খুব সহজেই প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। ব্যাপক হারে পার্থেনিয়াম নামের এই ক্ষতিকারক আগাছার দেখা মিলছে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার রাস্তার পাশে, ফসলের মাঠ কিংবা পতিত জমিতে। প্রাণ-প্রকৃতিতে বিষ ছড়ানো পার্থেনিয়াম মানুষ ও পোষা প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফুলের রেণুতে থাকা সেস্কুটার্পিন ল্যাকটোনজাতীয় বিষাক্ত পদার্থ পার্থেনিন মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এর মধ্যে রয়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক ক্যাফেইক অ্যাসিড, পি-অ্যানিসিক অ্যাসিড প্রভৃতি, ক্ষতস্থানে রক্তের সঙ্গে মিশে চর্মরোগ হতে পারে। ফুলের রেণু বা বীজ নাকে প্রবেশ করলে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর হয়। গবাদি পশু এই আগাছা খেলে অন্ত্রে ঘা দেখা দেয়, দুধ উৎপাদন কমে যায়। এর পুষ্পরেণু বেগুন, টমেটো, মরিচের মতো সবজি উৎপাদন ব্যাহত করে। মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরণের প্রক্রিয়াও ব্যাহত করে এই আগাছা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বছর-তিনেক আগে এই আগাছা নিধন কর্মসূচি পালন করে। তখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণের দাবি করলেও বর্তমানে আর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে ব্যাপক হারে বাড়ছে এ ভয়ংকর উদ্ভিদ, বাড়ছে উদ্বেগ। ঝুঁকি বাড়ছে ফসলের খেত ও মানুষের শারীরিক ক্ষতির। প্রতিদিনের সংবাদে গতকাল রবিবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে মারাত্মক ক্ষতিকর এই আগাছার বিষয়টি উঠে আসে। তথ্য বলছে, পার্থেনিয়ামের আদি বাসস্থান মেক্সিকো। গম আমদানির জেরে আগাছার বীজ আসে উপমহাদেশে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ থেকে দানাদার খাদ্য কিংবা গরুর খুরের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসেছে সেই আগাছা। এটি বেশি নজরে পড়ে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর রাস্তার দুই পাশে। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার রাস্তার দুধারে এবং ফসলের খেতেও ছড়িয়ে গেছে এই আগাছা। আগাছাটির আয়ুষ্কাল মাত্র তিন-চার মাস। এই আয়ুষ্কালের মধ্যে তিনবার ফুল ও বীজ দেয়। ফুল সাধারণত গোলাকার, সাদা ও পিচ্ছিল হয়। তিন-চার মাসের মধ্যে প্রায় ৪ থেকে ১ লাখ বীজ জন্ম দিতে সক্ষম পার্থেনিয়াম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, চীন, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষতিকর এই উদ্ভিদ।

প্রাণ-প্রকৃতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পার্থেনিয়াম আগাছা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আগে এখনই নির্মূল করার উদ্যোগ নিতে হবে। পার্থেনিয়ামের বিস্তার হয় জুন-জুলাই মাসে। এ সময় এই আগাছায় ফুল আসার আগেই মূলসহ উপড়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। সেজন্য কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে এ ব্যাপারে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে পার্থেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close