reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৫ জুন, ২০২৪

রাসেলস ভাইপার নিয়ে আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকুন

অতিপরিচিত একটি প্রাণীর নাম হলো সাপ। ছোট থেকে বুড়ো- সবাই-ই কমবেশি পরিচিত এই প্রাণীটির সঙ্গে। ‘সাপ’ শব্দটি শোনা মাত্রই অনেকের মনে এক ধরনের ভয়ের আবহ তৈরি হয়। সাপকে আমরা ভয়ের কিংবা বিশ্বাসঘাতক চরিত্রের এক প্রাণী হিসেবে জেনে এসেছি। আমরা যারা শহরে নয়, গ্রামে বড় হয়েছি, সাপকে চাক্ষুষ দেখার আগে এদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ঘটে দাদি-নানির কোলে; নানা গল্প-কিসসা শুনে আমরা জেনে থাকি যে সাপ একবার তার বিষদাঁত মানুষ বা অন্য কোনো জীবজন্তুর দেহে বসিয়ে দিতে পারলে তাদের মৃত্যু অনিবার্য। সেই ভয়-আতঙ্ক থেকেই আদিকাল থেকে সাপ নিয়ে জন্ম নিয়েছে নানা উপকথা, লোককাহিনি, উপাখ্যান।

সাম্প্রতিককালে একটি সাপ নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে, আর সেটি হলো রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া, যা সম্প্রতি দেখা মিলেছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। ভাইপারিডি পরিবারভুক্ত অন্যতম বিষধর সাপ এবং উপমহাদেশের ভয়ংকর চারটি সাপের একটি হচ্ছে এই রাসেলস ভাইপার। এই সাপের বংশবিস্তার ঘটে অতিদ্রুত। দেশের বিভিন্ন স্থানে রাসেলস ভাইপার সাপের উপস্থিতি এবং ছড়িয়ে পড়ার খবর উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে এই সাপ নিয়ে নানা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যা মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে রাসেলস ভাইপার কামড় দিলেই মানুষ দ্রুত মারা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ তথ্যটি সত্য নয়। রাসেলস ভাইপার কামড় দিলে ন্যূনতম ৭২ ঘণ্টার আগে সহজে রোগী মারা যায় না। দেশে এ সাপের কামড়ের পর ১৫ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকার তথ্যও আছে। কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যানটিভেনম দিলে রোগীকে বাঁচানো যায়। দেশে এখন পর্যন্ত এই সাপের ছোবলে যাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তাদের অধিকাংশই কৃষক। তারা ফসলের মাঠে আক্রান্ত হয়েছেন। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষকদের মধ্যে যদি এটা নিয়ে বড় আকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি দেশের কৃষিব্যবস্থায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রাসেলস ভাইপার সাপটি বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু গত ১০-১২ বছর আগে থেকে আবারও এই সাপের কামড়ের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি রাসেলস ভাইপার বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ১১ বছরে এই বিষধর সাপ ৩২টি জেলায় দেখা গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, চন্দ্রবোড়ায় কামড়ানো রোগী বাড়ছে। দেশের কয়েকটি জেলায় ও চরাঞ্চলে বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপের উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ‘অ্যানটিভেনম’ বা সাপে কামড়ের রোগীর চিকিৎসার ওষুধ ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. সামন্ত লাল সেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ও চন্দ্রবোড়া সাপের ব্যাপারে আতঙ্কিত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

রাসেলস ভাইপার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও ভীতিকর তথ্য ছড়ানোয় আতঙ্কের মাত্রা চরমে উঠেছে। সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে আতঙ্কিত না হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সংশ্লিষ্টরা মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নিয়ে রাখবে, যাতে সাপে কাটা রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close