reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ২৪ জুন, ২০২৪

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

বন্ধুত্ব ও উন্নয়নের পথে নবযাত্রা

বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অধিকতর উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং উন্নয়নমুখী। বাণিজ্য, সংস্কৃতিসহ দ্বিপক্ষীয় সবক্ষেত্রে সম্পর্ক এগিয়ে চলছে দেশ দুটি। বাংলাদেশ ও ভারত শুধু ভালো বন্ধু বা প্রতিবেশী নয়, একে অন্যের উন্নয়ন অংশীদারও। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সুদৃঢ় হলে পারস্পরিক উন্নয়ন এবং অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান হয় খুব সহজেই।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংযোগ, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য এবং শিল্পকলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলোয় যেমন মিল রয়েছে, তেমনি এ বিষয়গুলোর প্রতি দুই দেশের মানুষের আবেগও প্রায় একই রকম। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ভারত বাংলাদেশের জন্য সরাসরি যুদ্ধে জড়ালেও তাদের সীমান্ত খোলা রেখেছিল পাকিস্তানিদের দ্বারা বাঙালিদের গণহত্যার শুরু থেকেই। সেদিন নিষ্ঠুরতা থেকে বাঁচতে দেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত সরকার যুদ্ধে নিপীড়িত মানুষদের দীর্ঘ ৯ মাস আশ্রয় দিয়েছে, খাদ্য দিয়েছে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সম্পর্কের সূচনা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও আদর্শিক নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ক ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছায়। ১৯৭২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে। বিশ্বের কোনো শক্তিই পারবে না এই মৈত্রীতে ফাটল ধরাতে।’ বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত কূটনৈতিক সম্পর্কের পথেই চলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় দুই দেশের সম্পর্ককে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত শুক্রবার ভারত গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফর শেষে শনিবার দেশে ফেরেন তিনি। ভারতের নতুন সরকার গঠনের পর এটিই কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফর। দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের দুপক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আমরা আমাদের জনগণ ও দেশের উন্নতির জন্য একে অন্যের সঙ্গে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাজনীতি ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে আমাদের দিকনির্দেশনা দিতে “ভিশন স্টেটমেন্ট” সমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ও ভারত “ডিজিটাল পার্টনারশিপ” ও “টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সবুজ অংশীদারত্বের” জন্য একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে সম্মত হয়েছে।’ শেখ হাসিনার ভারত সফরের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশী দেশের মৈত্রী পৌঁছাল নতুন শিখরে। ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে দুটি চুক্তিসহ ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সফর নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীই অত্যন্ত খুশি। তারা বলেছেন, ‘বন্ধুত্ব ও উন্নয়নের পথে নবযাত্রা শুরু হয়েছে।’

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। দীর্ঘদিনের অনেক অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান হয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বাকিগুলোরও হবে সমাধান। এই বন্ধুত্বের বন্ধন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে- এটাই বিশ্বাস করে দুই দেশেরই জনগণ।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close