মো. তাহমিদ রহমান

  ২৪ জুন, ২০২৪

দৃষ্টিপাত

‘নীল গগনে নীলাভ হাসির বার্তা আনুক মাইক্রোচিপ ইমপ্লান্ট’

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কথা ভাবতে গেলেই হৃদয়পটে ভেসে আসে কতগুলো অসহায় মুখের প্রতিচ্ছবি। নিষ্পাপ এই শিশুদের স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যা শুধু তাদেরই ভোগায় না, একই সঙ্গে পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজনের অসহায়ত্ব উদ্বিগ্নতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্য দশজন সাধারণ শিশুর মতোই যখন সে বাইরের জগতে পদার্পণ করে, তখন বিশেষ শিশুদের বাবা-মাদের মুখোমুখি হতে হয় নতুন এক দুশ্চিন্তার। Autism Spectrum Disorder (ASD) বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের ঘুরে বেড়ানোর প্রবণতা থাকে।

ন্যাশনাল অটিজম অ্যাসোসিয়েশন (NAA)-এর মতে, ASD বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের প্রায় অর্ধেকেই বাড়ি থেকে দূরে ঘুরে বেড়ায়। ফলে অন্যের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান ও যোগাযোগের সমস্যার কারণে ASD বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুরা দূরে চলে যাওয়ার এবং হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, মৌখিক এবং অমৌখিক যোগাযোগের দক্ষতার অভাবে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে ফিরে আসার পথ খুঁজে পেতে তারা অক্ষম। এ কারণে ASD বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের পিতা-মাতা তার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বদা উদ্বিগ্ন থাকেন। NAA-এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, অপরিণামদর্শী ঘোরাঘুরির ফলে ৭১ শতাংশ শিশু প্রাণঘাতীর শিকার হয়। ১৮ শতাংশ শিশুর যানবাহনজনিত দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ডিহাইড্রেশন, হিটস্ট্রোক, হাইপোথার্মিয়া ও প্যানিক অ্যাটাকের মতো ঘটনাও ঘটে থাকে।

যেহেতু পারিবারিক কাজের চাপে এবং কর্মজীবী বাবা-মায়েদের কর্মক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক এসব শিশুর শারীরিকভাবে চোখের সামনে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আশার বাতিঘর হিসেবে এই শিশুদের জন্য যদি সরকারিভাবে ‘চিপ ইমপ্লান্ট’ প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসা যেত, তাহলে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এই শিশুদের নিরাপত্তা ও তাদের পরিবারের মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা করত। এসব ইমপ্লান্ট চিপ কার্যকরভাবে GPS ব্যবহার করে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সাহায্য করবে। পৃথিবীর বহু উন্নত দেশে এই শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মাইক্রোচিপিং প্রযুক্তি প্রচলিত আছে। এ ক্ষেত্রে শিশুর বৃদ্ধা আঙুলে ধানের দানার আকারের মাইক্রোচিপ ইমপ্লান্ট করে GPS-এর সাহায্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধকতায় শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে কানের ভেতর ইলেকট্রনিক মেডিকেল ডিভাইস প্রতিস্থাপন করে শ্রবণশক্তি ফিরে পাওয়া যায়, যা সরকারিভাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সরবরাহ করা হয়।

শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধকতা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের যেরূপ ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করা হয়, তদ্রূপ সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সরকারিভাবে এই শিশুদের GPS ট্র্যাকিংয়ের আওতায় নিয়ে এলে একদিকে যেমন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশে কী পরিমাণ শিশু ASD বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, তার হিসাব বের করাও সহজ হবে। ‘স্মার্ট অটিজম বার্তা’ নামক স্ক্রিনিং টুল ব্যবহার করে যেমন সহজেই অটিজম নিরূপণ করা যায়, ঠিক তেমনি ASD বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের মানবদেহের উপযোগী করে বানানো মাইক্রোচিপ ইমপ্লান্টকরণ হলে, ASD বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন যেকোনো শিশু বা ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে সহজেই জানা যাবে এবং হারিয়ে গেলে ট্র্যাকিং করে সহজেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে।

লেখক : প্রভাষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)

নূরুল আমিন মজুমদার ডিগ্রি কলেজ, লাকসাম, কুমিল্লা

[email protected]

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close