reporterঅনলাইন ডেস্ক
  ১৫ জুন, ২০২৪

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় হোক

মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। এ দুই উৎসবে রাজধানী ও অন্যান্য শহর থেকে অনেক মানুষ নাড়ির টানে পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যান; সবাই স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। প্রতিটি জাতীয় উৎসব-পর্বেই মাটির টানে উৎসে ফিরে যাওয়া যেন এ দেশে রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। এবারের ঈদুল আজহায়ও এর ব্যতিক্রম হবে না। আনন্দের দিনগুলো তাদের সঙ্গে কাটানোর এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা মানুষকে ঘরমুখো করে। তাইতো পথের সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে বাড়ি ফেরে মানুষ।

সরকারি অফিস-আদালত সব এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে; বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ বেসরকারি অফিসও। ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখন সবাই গ্রামের বাড়ির দিকে ছুটছেন। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। আজ শনিবারও ঘরমুখো মানুষের ভিড় থাকবে বাস-লঞ্চণ্ডট্রেনে। বছরের অন্যান্য সময়ে ছুটি-ছাটা তেমন পাওয়া যায় না বলেই ঈদের সময় অনেক বেশি মানুষ শহর থেকে গ্রামে যান। কারণ ঈদ মানেই যে আনন্দ। কিন্তু এই আনন্দই অনেক সময়ে বিষাদে পরিণত হয়। হয়ে যায় ভোগান্তি বা জীবনশঙ্কার কারণ। সড়ক বিশৃঙ্খলা, বেপরোয়া যান চলাচল, ফিটনেসবিহীন গাড়িসহ নানা কারণে ঘটে দুর্ঘটনা। তাছাড়া টিকিট কালোবাজারি, যানজট, ছিনতাই-ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ঘটনায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরার এসব ভোগান্তি খুবই দুঃখজনক। তবে বিগত কয়েক বছরে সড়ক পথের উন্নয়নের কারণে ভোগান্তি অনেকটাই কমে গেছে। এবারও মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিয়েছে সড়ক বিভাগ। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে মানুষ যেন সহজেই বাড়ি ফিরতে পারে, সেজন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। একটি সুন্দর ঈদযাত্রা উপহার দিতে ঘরমুখো মানুষের জন্য সড়ক থেকে সরানো হয়েছে গরুর হাট। রাস্তা রাখা হয়েছে ফাঁকা। সরকারের সংশ্লিষ্টদের দাবি, এবার দেশের সড়ক যোগাযোগ ভালো অবস্থায় আছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ, সেতু সচল রয়েছে। এবারও ঈদ উপলক্ষে সড়কপথে বিআরটিসি বাড়তি বাসের ব্যবস্থা করেছে; ট্রেনে বাড়তি বগি ও ইঞ্জিন সংযোজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেন ও নৌযানের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা দেখতে চাই।

কোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে ঘরে ফেরা মানুষের চাপে অনেক সময় বাস, ট্রেন, লঞ্চ কোনোটাতেই নির্ধারিত সময়সূচি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তবে যাত্রী ভোগান্তি কতটা সীমিত রাখা যায় সে চেষ্টাই সংশ্লিষ্টদের থাকা উচিত। পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং যাত্রী সাধারণ সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থানে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তাহলে ঈদযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখা সম্ভব। পরিবহন ব্যবসায়ীরা যেন ত্রুটিপূর্ণ যান পথে না নামান, চালকরা যেন বেপরোয়া যান চালনা থেকে বিরত থাকেন, হাইওয়ে পুলিশরা যেন মানবিকতা নিয়ে তৎপর থাকেন, আর সর্বোপরি যাত্রীরা যেন ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল না করেন- নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় আমাদের এটাই প্রত্যাশা।

"

প্রতিদিনের সংবাদ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
close